প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটের আগে বাইক চলাচলের ওপর নির্বাচন কমিশনের জারি করা নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে বড়সড় আইনি সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের যুক্তি দিলেও কমিশনের এই কড়া নির্দেশিকাকে “ক্ষমতার অপব্যবহার” এবং “নাগরিকদের ওপর হেনস্থা” বলে বর্ণনা করেছে আদালত। আজ, ২৪ এপ্রিল শুক্রবার এই বিষয়ে কমিশনকে হলফনামা দিয়ে গত ৫ বছরের অপরাধের খতিয়ান জমা দিতে হবে।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এই মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “রাজ্যে কি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে? তবে কেন সাধারণ মানুষের ওপর এমন বিধিনিষেধ চাপানো হচ্ছে?” আদালতের মতে, যথাযথ নজরদারি বা পুলিশি ব্যবস্থা করতে না পারার “ব্যর্থতা ঢাকতেই” হয়ত এই ধরনের সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিচারপতি মন্তব্য করেন যে, বাইক বন্ধ করলেই যদি অপরাধ কমে তবে গাড়ি কেন বন্ধ নয়? কারণ গাড়িতেও তো অস্ত্র বা বোমা বহন করা সম্ভব। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, “ক্ষমতা আছে বলেই যা খুশি করা যায় না।” অন্য কোনো রাজ্যে এমন নজির আছে কি না, তাও জানতে চান তিনি।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে আজ কমিশনকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে, কেন ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে এই বিধিনিষেধের প্রয়োজন পড়ল? গত ৫ বছরে ভোটের সময় বাইক ব্যবহার করে কতগুলি বিশৃঙ্খলা বা হিংসার ঘটনা ঘটেছে, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা এফআইআর।
উল্লেখ্য, কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে বাইক র্যালি নিষিদ্ধ। এছাড়া রাত ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চলাচল এবং দিনের বেলা পিলিয়ন রাইডিং বা বাইকের পিছনে আরোহী বসানোর ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যদিও জরুরি চিকিৎসা, স্কুল এবং ডেলিভারি পরিষেবাকে এই বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে।
আজ কমিশনের জমা দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই আদালত ঠিক করবে যে সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকারে এই হস্তক্ষেপ আইনত বৈধ কি না।