প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মহাযুদ্ধ শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে গেল অন্য লড়াই। একদিকে ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের প্রতীক্ষায় যখন প্রহর গুনছে গোটা রাজ্য, ঠিক তার আগেই বড়সড় বিপাকে রাজ্যের দমকল মন্ত্রী তথা বিধানসভা নির্বাচনের হেভিওয়েট প্রার্থী সুজিত বসু। কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে আগামী ১ মে তাঁকে ইডি (ED) দফতরে সশরীরে হাজিরা দিতেই হবে।
তপ্ত রাজনৈতিক আবহে হাইকোর্টের এই নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট মিটে যাওয়ার ঠিক পরেই এবং ফল প্রকাশের মাত্র তিন দিন আগে ১ মে সুজিত বসুকে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, এবার পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তের স্বার্থে তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতেই হবে।
পুরসভা নিয়োগ মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই ইডি সুজিত বসুকে একাধিকবার তলব করেছিল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় এবং প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য আপাতত তাঁকে ছাড় দেওয়া হলেও, ১ মে থেকে তাঁকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। কোনোভাবেই এই হাজিরা আর এড়ানো সম্ভব নয়।
তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র দাবি, কয়েক বছর আগে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। এই চক্রের মূল শিকড় খুঁজতে ইতিমধ্যেই মন্ত্রীর বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালানো হয়েছে। ৪ মে-র রেজাল্টে কার ভাগ্যে কী আছে তা জানা না গেলেও, ১ মে মন্ত্রীর সিজিও হাজিরা যে রাজ্যের শাসক শিবিরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভার ফলাফল প্রকাশের ঠিক আগে একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়া নির্বাচনের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। বিরোধীরা একে ‘পাপের ঘড়া পূর্ণ হওয়া’ বলে কটাক্ষ করলেও, শাসক দল একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলেই মনে করছে। ৪ মে-র জয়ের উৎসব হবে নাকি ১ মে-র হাজিরায় অস্বস্তি বাড়বে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বাংলার মানুষ।