প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বনাম নির্বাচন কমিশনের আইনি লড়াইয়ে আজ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬), প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত স্পষ্টভাবে জানতে চায়, ভারতের অন্যান্য রাজ্যে যা অনায়াসে সম্ভব হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে কেন তা পাহাড়প্রমাণ জটিলতা তৈরি করছে?
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি একটি নিবন্ধের উল্লেখ করে মন্তব্য করেন যে, তিনি দেখেছেন পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া ভারতের প্রায় সব রাজ্যেই SIR প্রক্রিয়া অত্যন্ত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন ছিল, “অন্যান্য রাজ্যে যেখানে কোনো বড় আইনি বিবাদ (litigation) শোনা যাচ্ছে না, সেখানে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই কেন এত অসুবিধা এবং বারবার প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে?”
আদালত লক্ষ্য করেছে যে, গুজরাত বা উত্তরপ্রদেশের মত রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার হার বা সংশোধনের সংখ্যা পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “সেখানে যদি এত বড় প্রক্রিয়া শান্তিতে শেষ হতে পারে, তবে বাংলায় কেন বারবার অভিযোগের পাহাড় জমছে এবং কাজ ব্যাহত হচ্ছে?”
রাজ্য সরকারের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্যাম দিবান দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি ‘অস্বাভাবিক’। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন (ECI) শুধুমাত্র বাংলার ক্ষেত্রেই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (Logical Discrepancy) তালিকা প্রকাশ করেছে, যা অন্য কোনো রাজ্যে হয়নি। এই নতুন তালিকার কারণে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেই রাজ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
আজকের এই টানটান শুনানির মধ্যেই ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। কমিশনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ (Under Adjudication) বা যাচাইয়ের জন্য রাখা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিযুক্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা এ পর্যন্ত প্রায় ২৯ লক্ষ কেসের নিষ্পত্তি করেছেন। এই নিষ্পত্তির ওপর ভিত্তি করেই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, যা এখন CEO West Bengal-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (url: https://ceowestbengal.wb.gov.in/)-এ দেখা যাচ্ছে।
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো একটি সাংবিধানিক কাজে কোনো প্রকার বাধা বা প্রতিবন্ধকতা (impediment) বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ১৯টি অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আরও বিচার বিভাগীয় আধিকারিক আনার বিষয়েও আদালত সবুজ সংকেত দিয়েছে।