প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে দলবদল বা রাতারাতি শিরোনামে আসা সহজ হতে পারে, কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্রের নূন্যতম শালীনতা এবং গাম্ভীর্য বজায় রাখা যে সবার দ্বারা সম্ভব নয়, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো রাজ্য বিধানসভায়। সাগরদিঘির নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস গতকাল শপথ নিতে গিয়ে যেভাবে চরম কাণ্ডজ্ঞানহীনতা এবং বিভ্রান্তির পরিচয় দিলেন, তা নিয়ে এখন তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অলিন্দে এখন একটাই প্রশ্ন— একজন জনপ্রতিনিধির কি বিধানসভার সাধারণ প্রোটোকলটুকুও জানা নেই?

গতকাল বিধানসভা কক্ষে যখন বায়রন বিশ্বাসের নাম সগৌরবে ঘোষণা করা হলো, তখন রাজ্যবাসী আশা করেছিল একজন দায়িত্বশীল বিধায়কের মার্জিত পদক্ষেপ। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। নিজের আসন ছেড়ে উঠে শপথের টেবিলের দিকে না গিয়ে তিনি সোজা হাঁটা লাগালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আসনের দিকে! বিধানসভার অন্দরে কোন দিক দিয়ে চলতে হয়, কোন আসনে কে বসেন— এই সামান্যতম ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক জ্ঞানটুকুও কি তাঁর নেই? এই ঘটনা শুধু বায়রন বিশ্বাসের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অজ্ঞতাকেই প্রকাশ করে না, বরং তাঁর রাজনৈতিক শিক্ষাদীক্ষা নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে।

বিভ্রান্তির এখানেই শেষ নয়। মুখ্যমন্ত্রীর ইশারায় সঠিক পথ খুঁজে পাওয়ার পর যখন তিনি শপথপাঠের টেবিলে পৌঁছালেন, সেখানেও তৈরি হলো চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। মাত্র কয়েক লাইনের প্রথাগত শপথবাক্য পড়তে গিয়ে বারবার হোঁচট খেলেন এই তৃণমূল বিধায়ক। উচ্চারণে অসঙ্গতি এবং বারবার খেই হারিয়ে ফেলা দেখে উপস্থিত অনেকেই তাজ্জব বনে যান। যে মানুষটি নিজের শপথবাক্যটুকু সঠিকভাবে স্পষ্ট ভাষায় পাঠ করতে পারেন না, তিনি বিধানসভায় নিজের এলাকার সাধারণ মানুষের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে কীভাবে সওয়াল করবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সংশয় তৈরি হয়েছে সাগরদিঘির ভোটারদের মনে।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে রাজনীতিতে স্রেফ দলবদল বা চটকদার প্রচারের মাধ্যমে বিধায়ক হওয়া গেলেও সংসদীয় গাম্ভীর্য রাতারাতি অর্জন করা যায় না। তবে এই গোটা ঘটনার মাঝেও খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে শান্ত থেকে, আঙুল দেখিয়ে এই অনভিজ্ঞ বিধায়ককে সঠিক পথ চেনালেন, তা রাজনৈতিক সৌজন্যের এক অনন্য নজির। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিভাবকসুলভ আচরণ, আর অন্যদিকে শাসকদলের বিধায়কের এই চূড়ান্ত অপেশাদারিত্ব— এই দুইয়ের পার্থক্যই বুঝিয়ে দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কার অবস্থান কোথায়।

বায়রন বিশ্বাসের এই ‘হোঁচট খাওয়া’ শপথ গ্রহণ আগামী দিনেও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক বড় ট্রোল উপাদান হয়ে থাকবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।