প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সদ্য সমাপ্ত নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন মিটতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন মূল্যায়ন। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রে কেবল ভোটের হার বা হার-জিতের অঙ্ক নয়, বরং আলোচনার বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে সম্পূর্ণ শান্ত ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ। ৯ অক্টোবরের ফলাফলের ঠিক আগে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক পণ্ডিতদের একাংশের মতে, গতকালের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া বাংলার চিরাচরিত নির্বাচন সংস্কৃতির খোলনলচে বদলে দেওয়ার এক সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে। কোনো বড়সড় রক্তপাত বা বুথ দখলের চেনা ছবি ছাড়াই যেভাবে গতকাল রেকর্ড সংখ্যক ভোটার বুথমুখী হয়েছেন, তা আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে চলেছে।
বিগত কয়েক দশকে বাংলায় যেকোনো ছোটখাটো উপনির্বাচন বা গ্রামীণ স্তরের ভোট মানেই যে বোমাবাজি, হিংসা আর পেশী শক্তির আস্ফালন সাধারণ মানুষের গা-সওয়া হয়ে গিয়েছিল, গতকালের উপনির্বাচনে সেই চেনা ছবিকে পুরোপুরি উধাও হতে দেখেছে রাজ্যবাসী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি এবং রাজ্য প্রশাসনের কঠোর আইন-শৃঙ্খলার সমন্বয়ে সাধারণ মানুষ কোনো প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই নিজেদের মতামত ইভিএমে বন্দি করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের দাবি, এই ভয়মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের সবচেয়ে বড় সুবিধা পেতে চলেছে পদ্ম শিবির। কারণ, অতীতে প্রচ্ছন্ন ভয়ের কারণে যে সমস্ত নীরব ভোটাররা বুথ পর্যন্ত পৌঁছতে পারতেন না, তাঁরা এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে নতুন বিজেপি সরকারের সুশাসন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের পক্ষে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন।
ভোট শেষ হতেই বিরোধী শিবিরের একাংশের তরফ থেকে যে ‘নীরব সন্ত্রাস’-এর নতুন তত্ত্ব বা পুনর্নির্বাচনের দাবি খাড়া করার চেষ্টা শুরু হয়েছে, তাকে পরাজয় ঢাকার আগাম কৌশল হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশ্লেষকদের স্পষ্ট দাবি, গতকালের ভোটে কোনো ছাপ্পা ভোট বা পেশী শক্তির আস্ফালনের সুযোগ না থাকায়, বুথ স্তরে ক্যাডার-ভিত্তিক পেশী শক্তির দাপটের ওপর নির্ভরশীল দলগুলি কার্যত ধুলোয় মিশে গিয়েছে। বাংলায় সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের এই নতুন ধারা সাধারণ মধ্যবিত্ত ও শান্তিকামী ভোটারদের মনে বর্তমান প্রশাসনের প্রতি আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ইভিএম খুললে পদ্ম শিবিরের জয়ের মার্জিনকে অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
দুই ভাগে বিভক্ত সাবেক শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বাকি বিরোধীদের ভোট কাটাকুটির অঙ্কের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে আমজনতার এই নির্ভীক অংশগ্রহণ। ৯ অক্টোবর যখন ব্যালট বাক্স উন্মোচিত হবে, তখন প্রমাণিত হয়ে যাবে যে বাংলার মানুষ এখন আর রাজনীতির নামে নৈরাজ্য বা পেশী শক্তিকে বরদাস্ত করতে রাজি নন। সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের এই বিপুল সাড়া আসলে বাংলায় এক স্থায়ী ও ইতিবাচক পরিবর্তনের মাইলফলক হতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।