প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড সরকারের সফল পরিকাঠামোকে অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের পুষ্টি ও মান উন্নয়নে এক বৈপ্লবিক মডেল কার্যকর করল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। আজ, ১ আগস্ট (শনিবার) দুপুরে কলকাতার তারাতলায় ইসকন পরিচালিত ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’-এর মেগা স্মার্ট কিচেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলায় এই নতুন ব্যবস্থার সূচনা করলেন। এই যৌথ বণ্টন পরিকাঠামোকেই ওয়াকিবহাল মহল ‘ওড়িশা মডেল’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। এই মডেলের মূল ভিত্তি হলো আন্তর্জাতিক স্তরের আধুনিক প্রযুক্তি ও গ্রামীণ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) এক অভূতপূর্ব যুগলবন্দী, যা শিশুদের পুষ্টি সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো রকম আইনি ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি করবে না।
ওড়িশা ও দেশের অন্যান্য রাজ্যে যেভাবে ইসকনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে রান্না করে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে হাজার হাজার শিশুর খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহ করা হয়, ঠিক সেই মডেলটিই এবার কলকাতায় পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে আনা হয়েছে। ইসকনের আধুনিক ও সম্পূর্ণ হাইজেনিক মেগা কিচেন থেকে প্রতিদিন সকালে পুষ্টিকর, স্বাদু ও সম্পূর্ণ নিরামিষ ‘সাত্ত্বিক’ অন্ন ও ব্যঞ্জন প্রস্তুত করে গাড়ির মাধ্যমে সরাসরি স্কুলে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হবে। ইসকন যেহেতু তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী ডিম রান্না বা স্পর্শ করে না, তাই শিশুদের প্রোটিনের চাহিদা অক্ষুণ্ণ রাখতে রাজ্য সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অভিনব সমাধান এনেছে। স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির (SHG) মাধ্যমে সপ্তাহে আলাদা করে ২ দিন প্রতিটি শিশুকে মেগা কিচেনের খাবারের সাথে সেদ্ধ ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা আজ থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।
কলকাতার স্কুলগুলিতে ইসকনের এই নিরামিষ আহার সরবরাহের সিদ্ধান্ত হতেই বিরোধী দলগুলি মিড-ডে মিলে ডিম বাতিলের অভিযোগে রাস্তায় নেমে আন্দোলন ও মিছিল শুরু করেছিল। আজ উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে সেই রাজনৈতিক প্রতিবাদের কড়া জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রথম থেকেই আন্ডা আন্ডা আন্ডা করে মিছিল বের করে ফেললেন!” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, পুষ্টির সাথে কোনো আপস না করেই এই ওড়িশা মডেল তৈরি করা হয়েছে। তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা ঠিক করেছি সপ্তাহে আলাদা করে আমাদের ব্যবস্থাতেই ২ দিন শিশুদের ডিম সিদ্ধর ব্যবস্থা করব। আশা করি বিরোধীরা মুখ বন্ধ রাখবেন, আপনারা হিংসার রিপুটা দমন করবেন।”
এই ওড়িশা মডেলে আরেকটি বড় আশঙ্কার মেঘ কেটেছে স্কুলের বর্তমান রাঁধুনিদের। ইসকন দায়িত্ব নেওয়ায় রান্নার কর্মীদের চাকরি চলে যাওয়ার যে গুজব ছড়াচ্ছিল, তা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আজ দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি মিছিলকারীদের উদ্দেশে বলি, একজনও রাঁধুনি মা-দিদি-বোন কর্মচ্যূত হবেন না।”
নতুন মডেলে এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর রাঁধুনি ও মা-বোনেদের মূলত দুটি বড় দায়িত্বে যুক্ত রাখা হচ্ছে। ১. ইসকনের মেগা কিচেন থেকে আসা খাবার শিশুদের মধ্যে পরিচ্ছন্নভাবে বণ্টন ও পরিবেশন করা। ২. সরকারের তরফ থেকে বরাদ্দ করা সপ্তাহে ২ দিনের ডিম সেদ্ধ করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ও তার পারিশ্রমিক এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিই পাবে। এর পাশাপাশি তাঁদের মাসিক ভাতাও ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করার বড় ঘোষণা করেছে রাজ্য।ওড়িশার সফল পুষ্টি পরিকাঠামোকে বাংলায় কার্যকর করে একদিকে যেমন শিশুদের হাই-প্রোটিন ডায়েট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, ঠিক তেমনই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মা-বোনেদের রোজগারও সুরক্ষিত রইল এই নতুন মডেলে।