প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতার নিউটাউন। রাজ্যের শাসনভার নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার পর, নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ সকালে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে পৌঁছে গেলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা বিজেপির অন্যতম শীর্ষ তারকা প্রচারক মিঠুন চক্রবর্তীর বাসভবনে। বঙ্গে বিজেপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর এই দুই হেভিওয়েট নেতার বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত বিনম্র ও মার্জিত ভাষায় জানান, মিঠুন চক্রবর্তী নিজেই তাঁর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু শ্রদ্ধেয় ‘মহাগুরু’কে সম্মান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁর নিউটাউনের ফ্ল্যাটে চলে যান।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ওনাকে বলেছি, আপনি কেন যাবেন? আপনার তৈরি করা মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আপনার আশীর্বাদ নিতে আপনার কাছে এসেছে।” তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট করেন যে, বঙ্গে বিজেপির এই ঐতিহাসিক সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারিগর হলেন স্বয়ং মিঠুন চক্রবর্তী। কোনো পদের লোভ না রেখে, নিজের শরীরের তোয়াক্কা না করে যেভাবে তিনি রাজ্যজুড়ে একের পর এক ম্যারাথন প্রচার ও ইনডোর মিটিং করেছেন, তা এক কথায় অনবদ্য। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে নিজের প্রশংসা শুনে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন চলচ্চিত্রের ‘ফাটাকেষ্ট’। শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে রেখে মিঠুন চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমের সামনে বুক ঠুকে গ্যারান্টি দিয়ে বলেন, “আমি রাজ্যের মানুষকে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, শুভেন্দু অধিকারীর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে আর কেউ হতেই পারে না। উনি এক নম্বর ও সেরা।” তিনি আরও যোগ করেন, শপথ নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই শুভেন্দু বাবু যেভাবে দিন-রাত এক করে বাংলার মানুষের জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছেন, তা সত্যিই গর্বের। আগামী দিনে নতুন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন এবং আসল পরিবর্তন করে দেখাবেন বলে দৃঢ় আশাপ্রকাশ করেন মিঠুন চক্রবর্তী।

বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু-মিঠুন জুটির এই হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎকারের পেছনে গভীর সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশল লুকিয়ে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রটোকল ভেঙে একজন অগ্রজ নেতার বাড়িতে নিজে চলে যাওয়া শুভেন্দু অধিকারীর বিনম্রতা এবং ‘জনতার মুখ্যমন্ত্রী’ ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষের কাছে আরও সুদৃঢ় করবে। ভোটের আগে মিঠুন চক্রবর্তী বাংলার আপামর জনতার কাছে যে সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নতুন সরকার গঠনের পর সেগুলিকে সরাসরি প্রশাসনিক রূপ দিতেই এই রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, বিজেপির এই জয়ের পেছনে শুধু রাজনৈতিক রণকৌশল নয়, মিঠুন চক্রবর্তীর মতো নিঃস্বার্থ প্রচারকদের আবেগ ও অক্লান্ত পরিশ্রম সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার এই মেগা বৈঠক সেরেই সরাসরি নিজের প্রথম জেলা সফরে রওনা হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে আজই পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে একটি হাই-প্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠক করতে চলেছেন তিনি। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনের আগে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রথম সফর। একদিকে সরকারের প্রশাসনিক রাশ শক্ত হাতে ধরা, আর অন্যদিকে দলের মূল কারিগরদের যোগ্য সম্মান দেওয়া— এই দুইয়ের মেলবন্ধনে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের কার্যকালের শুরুতেই এক মাস্টারস্ট্রোক দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।