প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে আজ সবার নজর দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী—এই হেভিওয়েট লড়াইকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পারদ চড়ছিল। তবে ভোটের সকালেই নিজের জয় এবং জয়ের ব্যবধান নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন সকালে নিজের বুথে ভোট দিয়ে হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন শুভেন্দু। সংবাদ মাধ্যমের ভিড় তাকে ঘিরে ধরলে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের জয়ের আগাম পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। শুভেন্দু দাবি করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার প্রবল চাপে আছেন। আমি ভবানীপুর থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হব।” ভোটের ফল বেরোনোর আগেই এই সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা মার্জিনের কথা ঘোষণা করে তিনি রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন।

শুভেন্দু অধিকারী এদিন শুধুমাত্র জয়ের দাবি করেই ক্ষান্ত হননি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর বয়স এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ওনার তো বয়স হয়েছে, ভোট দিয়ে এবার ওনার শান্তিতে বাড়ি চলে যাওয়া উচিত।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যে পরিষ্কার যে, তিনি এবারের লড়াইকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং অত্যন্ত ব্যক্তিগত স্তরে নিয়ে গিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত উপ-নির্বাচনে এই ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেই রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট ও সমীকরণ বদলেছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী যদি সত্যিই ৩০ হাজার বা তার বেশি ব্যবধানে বিজেপি লিড পায়, তবে তা বাংলার রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক উলটপুরাণ হিসেবে গণ্য হবে।

শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে অবশ্য আমল দিতে নারাজ শাসক দল। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, “ভবানীপুরের মানুষ তাদের ঘরের মেয়েকেই চেনেন। শুভেন্দু অধিকারী পরাজয় নিশ্চিত জেনেই সংবাদমাধ্যমের সামনে বড় বড় কথা বলছেন। ইভিএম খুললেই বোঝা যাবে ভবানীপুর কার পক্ষে।”

দ্বিতীয় দফার এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে ভবানীপুরের সাধারণ মানুষ কার মাথায় জয়ের মুকুট পরাবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘৩০ হাজারি’ জয়ের চ্যালেঞ্জ এবং মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি চলে যাওয়ার পরামর্শ—ভোটের সকালে বাংলার রাজনীতিকে যে উত্তপ্ত করে তুলেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।