প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এ ভাঙড় আসনটি ‘পাখির চোখ’ করলেও তৃণমূলের প্রার্থী নির্বাচনই কি বুমেরাং হতে চলেছে? গতকালের প্রার্থী তালিকায় ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লাকে ভাঙড়ের প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই শাসকদলের অন্দরে ‘গৃহযুদ্ধ’ শুরু হয়েছে। টিকিট পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শওকতের বিরুদ্ধে ‘বিজেপি যোগ’ এবং ‘গদ্দার’ তকমা দিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ভাঙড়ের ডাকাবুকো তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদ।
কাইজার আহমেদ সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, শওকত মোল্লা আসলে বিজেপির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখছেন এবং সুবিধা বুঝে তিনি দলবদল করবেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমার অবস্থান কী, ১৯ তারিখের মধ্যে জানিয়ে দেব।” আর এই আল্টিমেটামাই তৃণমূল শিবিরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বলা বাহুল্য, ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম ইতিমধ্যে তৃণমূল ত্যাগ করেছেন এবং তাঁর আইএসএফে যোগদানের সম্ভাবনা প্রবল। সেক্ষেত্রে কাইজার যদি আরাবুলের পাশে দাঁড়িয়ে শওকতকে বয়কট করেন, তবে ভাঙড়ে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকে ধ্বস নামা অনিবার্য। এদিকে শওকতকে ভাঙড়ের টিকিট দেওয়ায় তাঁর নিজের গড় ক্যানিং পূর্বেও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সেখানে বাহারুল ইসলামকে প্রার্থী করায় শওকত অনুগামীরা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এই ‘দ্বিমুখী’ অসন্তোষে তৃণমূলের নির্বাচনী পরিকল্পনা বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১-এ ভাঙড় আসনটি নওশাদ সিদ্দিকীর হাতে যাওয়ার পর এবার তৃণমূল মরিয়া লড়াই দিতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রার্থী হিসেবে শওকতকে বেছে নেওয়া এবং কাইজারের মত পুরনো নেতার বিদ্রোহ বিরোধীদের পালেই হাওয়া দিচ্ছে। এখন আরাবুল ও কাইজার যদি নির্দল বা অন্য দলের হয়ে কাজ করেন, তবে তৃণমূলের অন্তত ৩০-৪০ শতাংশ ভোট বিরোধীদের পকেটে চলে যেতে পারে। পাশাপাশি শওকতের বিরুদ্ধে কাইজারের ‘বিজেপি যোগ’-এর অভিযোগ সাধারণ তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা ভোটের বাক্সে ঘাসফুলের পরাজয়ের পথ প্রশস্ত করতে পারে। এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাজি’ শওকত মোল্লা কি ভাঙড়ে ফাটল রুখতে পারবেন? নাকি ১৯ তারিখ কাইজার আহমেদের ঘোষণা ভাঙড় তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক হতে চলেছে? ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে ভাঙড় এখন ‘এপিসেন্টার’।