প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক এবং চমকপ্রদ অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। আজ তিনি দাবি করেন, অতীতে রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়া দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প জায়ান্ট ‘বিড়লা গোষ্ঠী’ (Aditya Birla Group) পুনরায় বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ফিরে আসছে। শমীক ভট্টাচার্যের এই বিস্ফোরক দাবির পর থেকেই রাজ্যের শিল্প ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি অতীতের জমানার শ্রমিক অসন্তোষ এবং উগ্র আন্দোলনের ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এক আবেগঘন মন্তব্য করেন। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা দেখেছি কীভাবে ১৯৭৮ সালে কলকাতায় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সামনে শিল্পপতি আদিত্য বিড়লাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হেনস্থা করা হয়েছিল এবং তাকে হেঁটে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই চরম অপমানের জেরে বিড়লারা বাংলা ছেড়ে মুম্বাই বা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু এত কিছুর পরেও বিড়লা গোষ্ঠী নিজের নাড়ির টান ও কলকাতাকে ভোলেনি এবং তারা ফের পশ্চিমবঙ্গে আসতে চাইছে।” তিনি আরও যোগ করেন, কেবল বিড়লা গোষ্ঠীই নয়, অতীতে যে সমস্ত বড় বড় নামী শিল্প গোষ্ঠী প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তারা অনেকেই এখন রাজ্যে নতুন করে বিনিয়োগের লাইন লাগাচ্ছে।

বিজেপি রাজ্য সভাপতি বুক ঠুকে দাবি করেন যে, রাজ্যের বর্তমান শিল্প-বান্ধব পরিবেশ দেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পপতিরা বাংলায় টাকা ঢালতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিড়লা গোষ্ঠীর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বাসযোগ্য শিল্প ব্র্যান্ড টাটা (Tata) এবং বাটা (Bata)-ও বাংলায় তাদের লগ্নির পরিধি ব্যাপক আকারে বাড়াতে চাইছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইন্দোনেশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থা বাংলায় নতুন শিল্প ও পরিকাঠামো গড়ে তুলতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে মেগা বিনিয়োগ নিয়ে তিনি জানান, ইউরোপের একটি নামী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এ রাজ্যে একটি আন্তর্জাতিক মানের বড় হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলার চূড়ান্ত প্রস্তাব দিয়েছে।

বাংলায় শিল্পের এই নতুন জোয়ারে সামিল হতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রবাসী বাঙালি এবং অনাবাসী ভারতীয়দের (NRI) কাছে বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি আবেদন করেন, অনাবাসী ভারতীয়রা যেন তাদের পুঁজি ও মেধা নিয়ে এসে বাংলার মাটিতে বিনিয়োগ করেন। নতুন বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা, তোলাবাজি-মুক্ত পরিবেশ এবং অত্যন্ত দ্রুত জমি বা লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ আইনি গ্যারান্টি দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি রাজ্য সভাপতির এই ধামাকা দাবির পর এখন দেখার যে বিড়লা গোষ্ঠী বা অন্যান্য বড় সংস্থাগুলি রাজ্যে ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে এবং কত টাকার চূড়ান্ত বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে।