প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। এদিন একটি চা-চক্রের মঞ্চ থেকে তিনি সাফ জানান, পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন আসন্ন এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে অপরাধ দমনে যোগী আদিত্যনাথের ‘উত্তরপ্রদেশ মডেল’ অনুসরণ করা হবে। এমনকি, পুলিশের একাংশকে লক্ষ্য করে সরাসরি ‘এনকাউন্টার’-এর হুঁশিয়ারিও শোনা গেল তাঁর গলায়।

এদিন সকালে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে জনসংযোগ সারতে একটি সভায় যোগ দেন খড়্গপুরের বিজেপি প্রার্থী। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “এখানকার গুন্ডা ও মাফিয়াদের বিরুদ্ধে আমি লড়াই করেছি। আবার লড়ব, যতদিন থাকব লড়াই চালিয়ে যাব। তবে এবার আর শুধু লড়াই করতে হবে না, সোজাসুজি ভেতরে ঢোকাব। কারণ এবার ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে নিশ্চিতভাবে পরিবর্তন হবে।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে রাজ্য পুলিশকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের কিছু আধিকারিক নিরপেক্ষতা হারিয়ে রাজনৈতিক দলের স্বার্থে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “যে পুলিশ আজকে মাফিয়া-গুন্ডাদের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছে, চোর নেতাদের চামচাগিরি করছে, সেই পুলিশই অন্য রূপে ধরা দেবে। বিজেপি সরকার এলে এই পুলিশই উত্তরপ্রদেশের স্টাইলে এনকাউন্টার করবে। কীরকম ভেতরে ঢোকাবে, সেটা আপনারা দেখে নেবেন।”

উত্তরপ্রদেশে অপরাধীদের দমনে পুলিশের কড়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, “চার তারিখের পরে মে মাসে সব পাল্টে যাবে। জমানা বদলে গেলে পুলিশের কাজ করার ধরনও বদলে যাবে। তখন এই দুষ্কৃতী রাজ আর চলবে না।” দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, প্রকাশ্য মঞ্চে ‘এনকাউন্টার’-এর মত অগণতান্ত্রিক শব্দ ব্যবহার করে তিনি আসলে পুলিশ ও প্রশাসনকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। শাসকদলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে বিজেপি শিবিরের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই কড়া প্রশাসনের কথা বলেছেন দিলীপ ঘোষ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য একদিকে যেমন দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করবে, অন্যদিকে তেমনই প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন দেখার, এই হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব হিসেবে প্রশাসন বা শাসকদল কী পদক্ষেপ নেয়।