প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় সরকার বদলের পর এবার পূর্বতন তৃণমূল জমানার যাবতীয় ফাইলের চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকার। বিগত সরকারের আমলে হওয়া সমস্ত ধরনের আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্নীতি ও প্রকল্প ভিত্তিক অস্বচ্ছতার খতিয়ান জনগণের দরবারে আনতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পৌরোহিত্যে বসা ক্যাবিনেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বিগত সরকারের বিভিন্ন দফতরের কাজকর্ম ও খরচের খতিয়ান নিয়ে রাজ্য সরকার অফিশিয়ালি ‘শ্বেতপত্র’ (White Paper) প্রকাশ করবে। এই মেগা শ্বেতপত্র প্রস্তুত করার জন্য ৫ জন প্রবীণ মন্ত্রীকে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার বার্তা দিয়ে আসছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে জানা গিয়েছে, এই শ্বেতপত্রে মূলত দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হবে— প্রথমত, বিগত এক দশকে কোন কোন দফতরে কী কী বড়সড় আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছিল বা ধামাচাপা দিয়েছিল। দ্বিতীয়ত, বহুল প্রচারিত বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন বা ‘বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট’ (BGBS)-এর মাধ্যমে আদতে রাজ্যে কত কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে, কত কর্মসংস্থান হয়েছে নাকি পুরোটাই বিজ্ঞাপনী চমক ছিল— তার আসল সত্য জনসমক্ষে আনা হবে।
সবুজ সংকেত মেলার পরেই তড়িঘড়ি ৫ জন ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে নিয়ে এই বিশেষ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছে সরকার। এই কমিটি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের বিগত কয়েক বছরের ফাইল, বরাদ্দ অর্থ ও খরচের খতিয়ান স্ক্রুটিনি করবে। কোন প্রকল্পের টাকা কোথায় গিয়েছে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোনো সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখে একটি চূড়ান্ত রিপোর্ট বা শ্বেতপত্র তৈরি করবে এই কমিটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য সরকারের এই শ্বেতপত্র প্রকাশের সিদ্ধান্ত আসলে বিরোধী শিবিরের ওপর রাজনৈতিক ও আইনি চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার কৌশল। দফতর ধরে ধরে সরকারের এই ‘পোস্টমর্টেম’ রিপোর্ট সামনে এলে বহু হেভিওয়েট প্রাক্তন মন্ত্রী ও আমলার অস্বস্তি যে চরম আকার ধারণ করবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই ৫ মন্ত্রীর কমিটি কতদিনের মধ্যে তাদের প্রথম শ্বেতপত্র প্রকাশ করে।