প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে পরিবর্তনের তিন মাস কাটতে না কাটতেই এক নজিরবিহীন ও রোমহর্ষক মেগা তোলাবাজির অভিযোগে তোলপাড় শুরু হলো ওপার থেকে এপার বাংলা! যে দল তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, এবার সেই দলেরই হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে উঠল খোদ ৫ কোটি টাকা তোলা দাবি করার মারাত্মক অভিযোগ। ডায়মন্ড হারবারের বিষ্ণুপুরের কুলেরদাড়ি এলাকায় এক স্বনামধন্য ইমারতি ব্যবসায়ীর অফিস ও গোডাউন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ৫ কোটি টাকা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় সরাসরি নাম জড়িয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতা দিলীপ মণ্ডল ও বাবাই মালিকের। এই হাইভোল্টেজ ঘটনায় চরম নৈতিক ও রাজনৈতিক অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছে গেরুয়া শিবির।
বিষ্ণুপুরের বিশিষ্ট ইমারতি ব্যবসায়ী সুরিন্দ্রা কুমার কান্তির অভিযোগ, গত ৪ঠা মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তাঁর জীবন নরক বানিয়ে ছেড়েছে একদল দুষ্কৃতী। বিজেপি নেতা দিলীপ মণ্ডলের দলবল সরাসরি তাঁর অফিসে চড়াও হয়ে ৫ কোটি টাকার মেগা তোলা দাবি করে। টাকা না দিলে ব্যবসা পুরোপুরি লাটে তুলে দেওয়ার এবং এলাকা ছাড়া করার নিদান দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীর দায়ের করা পুলিশি অভিযোগ অনুযায়ী, গত তিন মাসে তাঁর ওপর ফিল্মি কায়দায় দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে। ৪ঠা মে (ফল প্রকাশের দিন) ভোটের ফল বেরোতেই ব্যবসায়ীর অফিস ও মূল গোডাউনে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতার অনুগামীরা। ১৮ই মে ফের রাস্তা আটকে এবং ফোনে ৫ কোটি টাকা তোলা চেয়ে চরম হুমকি দেওয়া হয়। ২১শে মে বিষ্ণুপুরের মল্লিকপুরে অবস্থিত ব্যবসায়ীর গোডাউন এবং সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক দামি গাড়ি লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ৩রা জুন হসপিটাল মোড় এলাকায় ব্যবসায়ীর আরও একটি বাণিজ্যিক গুদামে দুষ্কৃতী তাণ্ডব চলে।
সুরিন্দ্রা কুমার কান্তি বিষ্ণুপুর থানায় দুই দফায় লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগ, তাতেও দমে যায়নি অভিযুক্তরা। ব্যবসায়ীকে উল্টে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে—”থানায় গিয়ে এফআইআর করেও পার পাবি না, ৫ কোটি টাকা আমাদের দিতেই হবে!” বর্তমানে গোটা ব্যবসায়ী পরিবার চরম প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছে।
এই মেগা স্ক্যামে সবচেয়ে বড় চমকপ্রদ মোড় এসেছে বিজেপির নিজস্ব অন্দরমহল থেকে। সাধারণত দল এই ধরণের গুরুতর অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দিলেও, এবার কার্যত ব্যাকফুটে পড়ে অভিযোগের সত্যতা আংশিক স্বীকার করে নিয়েছেন ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতা সুফল ঘাঁটু। তিনি স্বীকার করেন যে, নিচুতলার কিছু কর্মী ও নেতার বিরুদ্ধে এই ধরণের গুরুতর তোলাবাজির অভিযোগ দলের কানেও এসেছে। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি বিষয়টি অত্যন্ত কড়া নজরে দেখছে এবং অপরাধী প্রমাণিত হলে খোদ বিজেপি নেতাদেরও রেহাই দেওয়া হবে না।
এই ৫ কোটি টাকার তোলাবাজির খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য নেতৃত্ব কটাক্ষ করে জানিয়েছে, যারা এতদিন তোলাবাজি নিয়ে বড় বড় ভাষণ দিত, ক্ষমতায় এসে তিন মাসেই তাদের আসল রাক্ষুসে রূপ প্রকাশ পেয়ে গিয়েছে। শুরুতেই যদি ৫ কোটি টাকা তোলা চাওয়া হয়, তবে আগামী দিনে ব্যবসায়ীদের বাংলা ছেড়ে পালাতে হবে। ২৪ ঘণ্টা আগেই তোলাবাজির অভিযোগে ২২ জন বিজেপি কর্মীকে সাসপেন্ড করেছিলেন রাজ্য নেতৃত্ব। কিন্তু খোদ ডায়মন্ড হারবারে চলা এই ৫ কোটি টাকার মেগা তোলাবাজির মামলা নতুন সরকারের “জিরো টলারেন্স” নীতির দিকে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন ছুঁড়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।