প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গতকাল হালিশহরের বুকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে যে অভাবনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি এখন তোলপাড়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বয়ান দিয়েছেন রাজ্যের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তৃণমূলের পক্ষ থেকে যেখানে এই ঘটনাকে গভীর চক্রান্ত বলে দাবি করা হচ্ছে, সেখানে রাজ্য বিজেপি সভাপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মমতার গাড়িতে কাদা ফেলা বা জুতো ছোঁড়ার মতো ঘটনার সঙ্গে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ভারতীয় জনতা পার্টির কোনও কর্মী বা সমর্থক যুক্ত নন। এর পাশাপাশি বিরোধী নেত্রীর ওপর ক্ষোভ প্রকাশের এই মাধ্যমটিকে তিনি কড়া ভাষায় নিন্দা করেছেন।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি তৃণমূলের সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলার গাড়ির ওপর পাথর, যে অভিযোগ তারা করছেন কাদা ছোড়া, জুতো ছোড়া এগুলোকে বিজেপি সমর্থন করে না। দূর দূর পর্যন্ত বিজেপির কোনও কর্মী এর সঙ্গে যুক্ত নয়। যে অত্যাচার তৃণমূল কংগ্রেস করেছে সেই অত্যাচার কিন্তু বিজেপি তৃণমূলের ওপর করেনি।”

এই গোটা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, এই ঘটনাটি বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এক বড় উদাহরণ হয়ে থাকল। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অতীতে যখন রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে দিলীপ ঘোষের মতো বিজেপির শীর্ষ নেতাদের ওপর বারবার হামলার অভিযোগ উঠেছিল, তখন তৎকালীন শাসক দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে সেগুলিকে ‘জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া’ বলে কার্যত পাত্তাই দেওয়া হয়নি। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও তাদের রাজ্য সভাপতি যেভাবে একজন নারী এবং বিরোধী নেত্রীর সম্মান রক্ষার্থে সরব হলেন, তাকে বিশ্লেষকেরা প্রকৃত ‘রাজধর্ম’ এবং উন্নত রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির হিসেবেই দেখছেন।

বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তারা চোর-ডাকাতদের ধরার জন্য আইনি লড়াই এবং ‘জেল ভরো’ আন্দোলনে বিশ্বাস করে, কিন্তু সস্তার কাদা ছোঁড়া বা জুতো দেখানোর নোংরা রাজনীতিকে দল কখনই প্রশ্রয় দেয় না। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূলের দীর্ঘদিনের অপশাসন আর দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষের মনের ভেতর যে তীব্র ক্ষোভ জমেছে, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে রাস্তায়। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াকে বর্তমান বিজেপি সরকার বা দল কোনওভাবেই সমর্থন করে না এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন এই ঘটনার পিছনে থাকা আসল সত্য উদঘাটন করতে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের এই মার্জিত এবং ধামাকাদার জবাব একদিকে যেমন তৃণমূলের তোলা সমস্ত রাজনৈতিক কুৎসার মুখ বন্ধ করে দিল, তেমনই রাজ্যে যে বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে আইন ও রাজনৈতিক সৌজন্য মেনে রাজধর্ম পালিত হচ্ছে, তা সর্বসমক্ষে পরিষ্কার করে দিল।