প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-চোখের চিকিৎসার অছিলায় কি আসলে দেশ ছাড়ার মতলব করছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড? বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার আর্জি খারিজ হতেই এই নিয়ে এক চরম বিস্ফোরক দাবি করলেন রাজ্য বিধানসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, চোখের চিকিৎসা আসলে একটি ‘অজুহাত’। কূটনীতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে অভিষেক যদি একবার ভারতের সাথে প্রত্যর্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) না থাকা কোনো দেশে চলে যান, তবে তাঁকে আর দেশে ফেরানো সম্ভব হবে না। বিরোধী দলনেতার এই মারাত্মক বার্তার পর রাজনৈতিক ও আইনি মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

এর আগে চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টে ফেরত পাঠায়। সেই নির্দেশ মোতাবেক গতকাল, ৫ আগস্ট ২০২৬ (বুধবার) বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে এই মামলার হাইভোল্টেজ শুনানি হয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, অভিষেককে কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের অপথালমোলজি বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বাধীন মেডিকেল বোর্ডের মুখোমুখি হতে হবে, যাতে সত্যিই বিদেশ যাওয়া জরুরি কি না তা চিকিৎসকরা নির্ধারণ করতে পারেন। কিন্তু অভিষেকের বর্ষীয়ান আইনজীবী আদালতে সাফ জানিয়ে দেন, তাঁর মক্কেল এসএসকেএম-এর বোর্ডের সামনে পরীক্ষা করাতে রাজি নন; তিনি আমেরিকার জনস হপকিন্স হাসপাতালেই চিকিৎসা করাতে চান। অভিষেকের এই অনমনীয় জেদ দেখে ক্ষুব্ধ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের এই রায়ের পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন:”এমপি হওয়ার কারণে ওঁর কাছে কূটনীতিক (Diplomatic) পাসপোর্ট রয়েছে। আমাদের প্রবল আশঙ্কা ছিল, চোখ দেখানোর অজুহাতে উনি যদি একবার এমন কোনো দেশে পৌঁছে যান যার সাথে ভারতের কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, তবে আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে উনি আর কোনোদিন দেশে ফিরবেন না। উনি আসলে তদন্তের হাত থেকে বাঁচতে মরিয়া হয়ে দেশ ছাড়তে চাইছেন।” রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেলও আদালতে যুক্তি দেন যে, অভিষেকের বিরুদ্ধে রাজ্যে অন্তত ১৫টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং ভোট পরবর্তী হিংসা সহ একাধিক মামলায় তদন্তের স্বার্থে তাঁর দেশে থাকা অত্যন্ত জরুরি।

বিরোধী দলনেতার এই দেশ ছাড়ার বা ফেরারি হওয়ার তত্ত্বকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, “২০১৬ সালের গাড়ি দুর্ঘটনার পর থেকেই অভিষেকের চোখের চিকিৎসা চলছে এবং এর আগে তিনি ১২ বার বিদেশে গিয়ে আবার নির্দিষ্ট সময়ে দেশে ফিরে এসেছেন। একটি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়কে নিয়ে এই ধরণের কদর্য রাজনীতি করা বন্ধ করা উচিত।” তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন বিজেপি সরকারের কড়া আইনি ঘেরাটোপ এবং আদালতের এসএসকেএম পরীক্ষার নির্দেশ এড়ানোর ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখন পুরোপুরি আইনি ফাঁদে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।