প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একুশে জুলাইয়ের পর এবার আগামী ২৮ অগাস্টের মেগা কর্মসূচি নিয়েও বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূলের দুই বিবদমান শিবির। দীর্ঘ বছর ধরে ধর্মতলার মেয়ো রোডের গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সমাবেশ করে আসা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবস ঘিরে এবার রাজপথে নজিরবিহীন আইনি লড়াই দেখল বাংলা। গত বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটল এখন সম্পূর্ণ প্রকাশ্যে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী ‘কালীঘাটপন্থী’ শিবির এবং অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী—উভয় পক্ষই মেয়ো রোডের দখল নিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার (২৫ অগাস্ট) মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিলেন, দুই গোষ্ঠীর কাউকেই মেয়ো রোডের বিতর্কিত জায়গায় খোলা আকাশের নিচে সভা করার অনুমতি দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলার অবনতি রুখতে শর্তসাপেক্ষে দুই শিবিরকে দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিকল্প জায়গা বরাদ্দ করেছে আদালত।

আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ অনুযায়ী, মেয়ো রোডের বিকল্প হিসেবে দুই গোষ্ঠীকে ভিন্ন দুটি রাস্তায় কর্মসূচি করতে হবে। কালীঘাটপন্থী (মমতা শিবির): বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে, ক্যাথিড্রাল রোডের একটি লেনে এই গোষ্ঠী তাদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান করবে। ঋতব্রতপন্থী (বিদ্রোহী শিবির): ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের একটি লেনে কর্মসূচির অনুমতি পেয়েছে এই শিবির।আদালত শুধু জায়গাই বদলে দেয়নি, একই সাথে দুই শিবিরের জনবল প্রদর্শনের আশাতেও জল ঢেলে দিয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের কড়া নির্দেশ, কোনো গোষ্ঠীই তাদের কর্মসূচিতে ১,৫০০ জনের বেশি মানুষের সমাগম করতে পারবে না। পাশাপাশি আদালত আরও কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টের মধ্যে দুই পক্ষকেই অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। উভয় সভাই রাস্তার মাত্র একটি লেনে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, অন্য লেনটি সাধারণ যান ও পথচারী চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় গোষ্ঠীকেই তাদের অন্তত ২০ জন করে স্বেচ্ছাসেবকের ফোন নম্বর বুধবারের (২৬ অগাস্ট) মধ্যে কলকাতা পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলত্যাগী বিধায়কদের বড় অংশ নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করায় ছাত্র সংগঠনের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে এই সংঘাত। হাইকোর্ট শুনানির সময় দুই পক্ষকে একসাথে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বড় যৌথ সভা করার প্রস্তাব দিলেও, কোনো পক্ষই একে অপরের মুখোমুখি বসতে রাজি হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত কড়া বিধিনিষেধের ঘেরাটোপেই সম্পন্ন হতে চলেছে এবারের ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস।