প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ, শনিবার থেকে দেশজুড়ে (যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও শামিল) শুরু হলো ভারতের ১৬তম ডিজিটাল জনগণনা বা জনশুমারি ২০২৭-এর প্রথম ধাপ। এবার আর সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হবে না, বরং তথ্যপ্রযুক্তির হাত ধরে ঘরে বসেই নিজেদের তথ্য নিজেরাই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে নথিবদ্ধ করতে পারবেন।জেলাশাসকদের (DM) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১ থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রথম ১৫ দিন সাধারণ নাগরিকেরা অনলাইনে ‘সেলফ এনুমারেশন’ (Self-Enumeration) বা স্ব-শুমারির সুবিধা পাবেন। এরপর ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি কর্মীরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই বা ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করবেন।

অনলাইনে নিজের পরিবারের তথ্য সুরক্ষিতভাবে নথিভুক্ত করার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো। প্রথমে স্ব-শুমারির জন্য নির্দিষ্ট করা কেন্দ্রীয় সরকারের অফিশিয়াল পোর্টাল se.census.gov.in-এ লগ-ইন করতে হবে। পোর্টাল বা অ্যাপে ঢুকে নিজের রাজ্য নির্বাচন করার পর পরিবারের প্রধানের নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি (OTP)-র মাধ্যমে মোবাইল নম্বর যাচাই করে নিতে হবে। এই পোর্টালটি বাংলাসহ মোট ১৬টি ভাষায় উপলব্ধ রয়েছে। নিজের বাড়ির সম্পূর্ণ ঠিকানা লেখার পাশাপাশি ম্যাপের মাধ্যমে বাড়ির সঠিক অবস্থান (Location Pin) চিহ্নিত করতে হবে। বাড়ির গঠন (মেঝে, ছাদ কীসের তৈরি), বিদ্যুৎ সংযোগ, পানীয় জলের উৎস, রান্নার গ্যাস বা জ্বালানি এবং নিকাশি ব্যবস্থার তথ্য পূরণ করতে হবে। এছাড়া পরিবারে ব্যবহৃত সম্পদ (টিভি, ল্যাপটপ, গাড়ি ইত্যাদি) এবং প্রধান খাদ্যশস্যের তথ্য নির্বাচন করতে হবে। সমস্ত তথ্য রিভিউ করে সাবমিট (Submit) করলেই একটি ১১ সংখ্যার ‘সেলফ এনুমারেশন আইডি’ (SE ID) তৈরি হবে, যা মোবাইল নম্বরে এসএমএস মারফত চলে আসবে।

যাঁরা আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে অনলাইনে সেলফ এনুমারেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন করে ফর্ম পূরণ করতে হবে না। ১৬ আগস্ট থেকে যখন জনগণনা কর্মীরা মাঠে নামবেন, তখন তাঁদের শুধু ওই ১১ সংখ্যার ইউনিক আইডি (SE ID)-টি দেখালেই চলবে। কর্মীরা তখন ট্যাবে বা মোবাইল অ্যাপে ওই নম্বর ইনপুট করে দেওয়া তথ্যের সত্যতা মিলিয়ে নেবেন। তবে মনে রাখবেন, এই অনলাইন স্ব-শুমারি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। যাঁরা এই ১৫ দিনের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন না বা করবেন না, তাঁদের কোনও চিন্তা নেই; ১৬ আগস্ট থেকে জনগণনা কর্মীরা সরাসরি তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করবেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এই ডিজিটাল জনগণনা মূলত দুটি পর্যায়ে বিভক্ত। প্রথম পর্যায় (১ আগস্ট – সেপ্টেম্বর ২০২৬): গৃহগণনা ও গৃহতালিকাভুক্তিকরণ, যেখানে বাড়ি, থাকার পরিকাঠামো এবং পরিবারের ব্যবহৃত সম্পদের ডেটা নেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায় (ফেব্রুয়ারি ২০২৭): মূল জনসংখ্যা গণনা (Population Enumeration)। এই দ্বিতীয় পর্বেই নাগরিকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান, শিক্ষা এবং ওবিসি (OBC) সহ স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার সর্বস্তরের ব্যাপক ‘জাতিভিত্তিক জনগণনা’ বা কাস্ট সেন্সাস করা হবে।