প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনীতির অলিন্দে এবার সবচেয়ে বড় ও নাটকীয় দলবদলের ঘটনাটি ঘটে গেল। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য শেষ পর্যন্ত কালীঘাটের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। মমতা-তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির পদে বসার মাত্র এক মাসের মাথায়, নেত্রীর সঙ্গে তীব্র ‘বিশ্বাসযোগ্যতার’ লড়াইয়ে জড়িয়ে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি। এবার সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দিয়ে এক বিরাট সর্বভারতীয় পদের ব্যাটন তুলে নিলেন চন্দ্রিমা।
সূত্রের খবর, মেট্রোপলিটান ভবনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিমদের আকস্মিক প্রবেশের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বিদ্রোহীদের বাধা না দিয়ে ভবন থেকে তাঁর বেরিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোন করে তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং বলেন, “তুমি ওদের হাতে ভবন তুলে দিলে?” এই ঘটনাতেই গভীরভাবে মর্মাহত হয়ে চন্দ্রিমা স্পষ্ট জানান, যেখানে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সেখানে ফেরার কোনো প্রশ্নই নেই। এর পরপরই তিনি বিধানসভায় গিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে বৈঠক করেন, যা তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথের বড় ইঙ্গিত ছিল।
শুক্রবার তপসিয়ার এক বিলাসবহুল হোটেলে দীর্ঘক্ষণ বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের শিবিরের নতুন সর্বভারতীয় ও রাজ্য কমিটির তালিকা প্রকাশ করেন। আর সেখানেই চন্দ্রিমার জন্য রাখা হয়েছিল সবচেয়ে বড় চমক। মমতা-তৃণমূলের প্রাক্তন এই রাজ্য সভাপতিকে ঋতব্রতদের ‘আসল তৃণমূল’-এর সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি (All India Vice President) করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ কমিটি অর্থাৎ জাতীয় কর্মসমিতিতেও (National Working Committee) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। চন্দ্রিমা আসার পাশাপাশি তাঁর পুত্র সৌরভ বসুর কাঁধেই এসেছে যুব সংগঠনের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো পোড়খাওয়া ও অর্থ-স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলানো নেত্রীর বিদায় এবং বিদ্রোহী শিবিরে এত বড় পদ পাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এক বিরাট ধাক্কা। চন্দ্রিমা তাঁর ইস্তফাপত্রে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘অথরাইজড সিগনেটরি’ (Authorized Signatory) পদ থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন, যা আইনি লড়াইয়ে ঋতব্রত শিবিরকে আরও শক্তিশালী করবে। ‘কালের নিয়মে’ চন্দ্রিমার এই নতুন পথ চলা ঘাসফুলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা দখলের লড়াইকে এবার কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।