প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নারী শিক্ষার প্রসার এবং কলেজ ড্রপআউট রুখতে ‘কন্যারত্ন’ দিবসের মঞ্চ থেকে একগুচ্ছ নজিরবিহীন ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বিশেষ সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাত্রীদের জন্য সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেন। একই সঙ্গে, এ দিন থেকেই পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে কার্যকর হলো কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় সরকারের অবস্থান জানিয়ে বলেন, “নারী সুরক্ষায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের বাজেটে নারী কর্মসংস্থান অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নারী শিক্ষায় মহিলা কলেজ বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কলেজ ড্রপআউট রুখতে আর্থিক সুবিধা-সহ নানা ব্যবস্থা রেখেছি। আজ থেকে ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্পে কন্যাদের যুক্ত করলাম।”

নতুন সরকারের এই মেগা প্রকল্প থেকে ছাত্রীদের বার্ষিক অনুদান এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করার বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে স্কুল স্তরে ছাত্রীরা বছরে ১,০০০ টাকা করে অনুদান পেত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে বার্ষিক ২,০০০ টাকা করা হবে। তিনি আরও জানান, “মোট ২০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রী বিগত সরকারের কর্মসূচিতে যুক্ত ছিল।” নতুন সরকার চলতি বছরে সেই সমপরিমাণ ছাত্রীকেই প্রকল্পের টাকা দিচ্ছে। প্রথম ধাপে ১০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪০০ কোটি টাকা সরাসরি স্কুলগুলির ভেরিফিকেশনের ভিত্তিতে আজ থেকেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিদ্যালয়গুলি যত দ্রুত যাচাই করে ডেটা পাঠাবে, বাকি ছাত্রীরাও তত দ্রুত টাকা পেয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

টাকার অভাবে ছাত্রীরা যাতে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে না দেয়, তার জন্য উচ্চশিক্ষায় এককালীন ৫০,০০০ টাকা স্কলারশিপ দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং জাতীয় স্তরে ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার খরচ জোগাতে রাজ্য সরকারের তরফে ১০০ কোটি টাকার একটি সম্পূর্ণ পৃথক স্পেশাল ফান্ড রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়েদের আপৎকালীন সুরক্ষায় রাজ্যে ২৪ ঘণ্টার ‘১৮১’ হেল্পলাইন সার্ভিস সক্রিয় করার কথা জানানো হয়েছে।

পবিত্র স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন নতুন প্রজন্মের ছাত্রীদের দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দেশাত্মবোধ জাগরণের ক্ষেত্রে কন্যারা মাতঙ্গিনী হাজরার ভূমিকা পালন করুন, এটাই আমরা চাইব।” বক্তব্য শেষে দেশাত্মবোধের জোয়ার তুলতে রাজ্যবাসীকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অনুকরণে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ অভিযানে শামিল হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।