প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আর মাত্র কিছুক্ষণের অপেক্ষা! পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক আকাশপথের ইতিহাসে এক গৌরবময় ও সোনালী অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত সরকারগুলির আমল জুড়ে যে সমস্ত বিমানবন্দরগুলি শুধুই অলীক প্রতিশ্রুতি আর লাল ফিতের ফাসঁ-এ আটকে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রেকর্ড সময়ে সেগুলির প্রশাসনিক জট কাটলেন। আজ কিছুক্ষণের মধ্যেই কলকাতার নবান্ন সভাঘরে এক ঐতিহাসিক মেগা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে।কেন্দ্রীয় সরকারের অত্যন্ত সফল ও জনপ্রিয় ‘উড়ান ২.০’ (UDAN 2.0) প্রকল্পের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই হাইপ্রোফাইল চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু, রাজ্যের কর্মযোগী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং দক্ষ পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং।

এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং তার রূপরেখার সমস্ত কৃতিত্বই যাচ্ছে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঝুলিতে। পূর্বে কেন্দ্রের তরফে এই সমস্ত আঞ্চলিক রুটে মাত্র ১৯ আসনের ছোট বিমান চালানোর প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাটির মানুষ শুভেন্দু অধিকারী ভালো করেই জানতেন, বাংলার বিপুল জনসংখ্যা এবং সাধারণ মানুষের আকাশছোঁয়া চাহিদার সামনে ১৯ আসনের বিমান অত্যন্ত অপ্রতুল। তিনি নিজেই কেন্দ্রীয় বিমান মন্ত্রকের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেন এবং নিজের অটল প্রশাসনিক জেদ বজায় রেখে সরাসরি বড় ৭২ আসনের এটিআর (ATR 72) বিমান চালানোর বিষয়ে কেন্দ্রকে রাজি করান। চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই বাংলার গ্রামীণ পরিকাঠামো ও সাধারণ মানুষের আবেগকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর অসামান্য নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন।

অতীতে বছরের পর বছর ধরে উত্তরবঙ্গ ও রাঢ়বঙ্গের বিমানবন্দরগুলি জমি সংক্রান্ত জটিলতা ও তৎকালীন প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নিয়েই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত ফাইল ক্লিয়ার করার নির্দেশ দেন। তাঁরই ব্যক্তিগত ও কড়া নজরদারিতে আজ যে ৩টি বিমানবন্দর উড়ান ২.০ প্রকল্পের ডানা মেলতে চলেছে, সেগুলি হলো: বালুরঘাট (দক্ষিণ দিনাজপুর): ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই জেলার বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জমির ব্যবস্থা মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে সম্পন্ন করিয়েছেন। কোচবিহার: উত্তরবঙ্গের রাজকীয় শহরকে কলকাতার বুকে মাত্র কয়েক মিনিটে জুড়ে দিতে কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে পুরোদমে ৭২ আসনের এটিআর বিমান ওড়ানোর সমস্ত রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। পুরুলিয়া (ছররা বিমানবন্দর): জঙ্গলমহলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও শিল্প বিকাশের জন্য পুরুলিয়ার ছররা বিমানবন্দরকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার রেকর্ড সময়ে সমস্ত ছাড়পত্র ও লাইসেন্সের কাজ গুটিয়ে এনেছে। (উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের অধীনে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডাকেও যুক্ত করে মোট ৪টি নতুন আঞ্চলিক বিমানবন্দরকে বিকশিত করার দীর্ঘমেয়াদি ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী)।

উড়ান ২.০ প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হলো—”উড়ুক দেশের আম নাগরিক”। চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিশ্চিত করেছেন যে, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বিমান জ্বালানির ওপর বিশেষ কর ছাড় (VAT/Tax concessions) এবং প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেওয়া হবে। এর ফলে উত্তরবঙ্গ বা জঙ্গলমহলের একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষও অত্যন্ত কম খরচে, মাত্র কয়েকটা টাকার বিনিময়ে এবং অত্যন্ত কম সময়ে কলকাতায় জরুরি চিকিৎসা বা ব্যবসার কাজে যাতায়াত করতে পারবেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের মতে, রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর যেভাবে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সমন্বয় কাজ করছে এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে নিজের অলৌকিক প্রশাসনিক দক্ষতায় এই চুক্তিকে বাস্তবায়নের দোরগোড়ায় নিয়ে এলেন, তা আগামী দিনে বাংলার শিল্প ও পর্যটন ক্ষেত্রে এক নতুন স্বর্ণযুগ নিয়ে আসতে চলেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই হতে চলা এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলার মানুষ আজ ধন্য এমন একজন ‘কাজের মানুষ’কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পেয়ে।