প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের জড়তা এবং লালফিতের ফাঁস কাটাতে এবার সরাসরি মাঠে নামলেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নকে গতি দিতে এবং সরকারি কাজের গতিপ্রকৃতি খতিয়ে দেখতে এক নজিরবিহীন ও বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন তিনি। আগামী ২১ মে, ২০২৬ তারিখে রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ জেলা—পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমান-এর শীর্ষ জেলা আধিকারিকদের নিয়ে একটি হাই-প্রোফাইল ও জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার গঠনের পর জেলা স্তরের প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে এটিই তাঁর প্রথম মেগা রিভিউ মিটিং, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই নবান্ন থেকে জেলা স্তরের আমলা মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে বিকাশ ভবন ও নবান্ন সূত্রে।

বিগত দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ থমকে থাকার বা ধীরগতিতে চলার অভিযোগ উঠেছিল। সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দিতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই বিশেষ উদ্যোগ। পাঁচ জেলার চলমান সমস্ত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পগুলির বর্তমান স্থিতি এবং অগ্রগতির খতিয়ান সরাসরি খতিয়ে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী। যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে বা ধীরগতিতে চলছে, সেগুলি ঠিক কী কারণে আটকে রয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সমস্যা চিহ্নিত করে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের ওপর জনগণের রাশ শক্ত করতে বৈঠকে বসার আগেই জেলা আধিকারিকদের (DM) সংশ্লিষ্ট এলাকার নতুন নির্বাচিত বিধায়কদের (MLA) সঙ্গে বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধায়কদের পরামর্শ নিয়ে আমলাদের তৈরি করতে হবে এলাকার জন্য নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রস্তাব তালিকা। আগামী ২১ মে-র বৈঠকের আগেই প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে তাদের এলাকার সামগ্রিক কাজের একটি বিস্তারিত, নিখুঁত ও সংহত প্রোগ্রেস রিপোর্ট সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে (CMO) জমা দিতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর থেকেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে “কাজে কোনো ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না”। এই পাঁচ জেলার জরুরি বৈঠক আসলে রাজ্যের আমলাতন্ত্রের কাছে একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা—শাসন ব্যবস্থায় গতি এবং স্বচ্ছতাই হবে এই সরকারের মূল মন্ত্র। আমলাদের একাংশের মতে, প্রথম বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করে দিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট যে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কাজে এক বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।