প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-“কাকদ্বীপে মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছিল। যে আইপিএস (IPS) অফিসার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁকে সাসপেন্ড করেছি। আর যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তা হয়েছিল, তাঁকে মহালয়ার দিন দিল্লিতে প্রিজন ভ্যানে উঠতে হয়েছে। এটাই সনাতনের শক্তি।”—শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের এক মেগা জনসভা থেকে ঠিক এই ভাষাতেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিগত তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন কাকদ্বীপের সভা থেকে অতীতের এক বিতর্কিত ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বিস্ফোরক তুলনা টানেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ভাষণে মূলত গত বছর (২০২৫ সাল) কালীপুজোর সময়ে কাকদ্বীপের সূর্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একটি মন্দিরে ঘটা প্রতিমা বিতর্কের দিকে ইঙ্গিত করেন। সেই সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দোহাই দিয়ে তৎকালীন সুন্দরবন জেলার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী প্রতিমাটিকে একটি পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। বিজেপি সেই সময় একে সনাতন ধর্মের চরম অবমাননা বলে সরব হয়েছিল। এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সেই ঘটনার তদন্ত করে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসারকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করেছে বর্তমান বিজেপি সরকার।
কাকদ্বীপের ঘটনার পাল্টা হিসেবে সম্প্রতি দিল্লিতে তৃণমূল নেত্রীর প্রিজন ভ্যানে ওঠার ঘটনাকে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দিল্লিতে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হতে হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যাঁর নির্দেশে মা কালীর মূর্তিকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছিল, প্রকৃতির নিয়মে আজ তাঁকেই মহালয়ার দিন দিল্লিতে প্রিজন ভ্যানে উঠতে হয়েছে। এটাই সনাতনী শক্তির পরিচয়।”
এদিন জনসভায় বিপুল জনসমাগম দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। অতীতে এই এলাকাতেই তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে আসার সময় কালো পতাকা দেখানো হয়েছিল বলে স্মরণ করেন তিনি। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সেদিন যাঁরা কালো পতাকা দেখিয়েছিলেন, আজ তাঁরাই স্বাগত জানাচ্ছেন। এটাই গণতন্ত্র, জনগণই শেষ কথা বলে।” কাকদ্বীপের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এনেছে, তাকেই তিনি গণতন্ত্রের আসল রূপ বলে ব্যাখ্যা করেন।