প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টিপাত এবং জলাধার থেকে জল ছাড়ার ফলে রাজ্য জুড়ে তৈরি হওয়া প্লাবন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ বিধাননগরের জলসম্পদ ভবনে সেচ ও জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী ও সরকারি আধিকারিকদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি এবং পূর্বতন সরকারের নীতি নিয়ে বেশ কিছু অত্যন্ত কড়া ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন।রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রাণ বণ্টন নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত সরকারের বন্যা ব্যবস্থাপনার খামতি তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “অগস্ট পড়লে তো বালির ব্যাগের উৎসব শুরু হতো, আর ম্যান মেড বন্যা হবে না…।” তিনি স্পষ্ট জানান যে আগের জমানার মতো এবার বালি বস্তা নিয়ে রাজনীতি বা উৎসব করার দিন শেষ, তাঁর সরকার বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে।
রাজ্যের প্লাবন এলাকাগুলির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই হুগলির ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া আরামবাগ মহকুমার খানাকুল এবং গোঘাটে প্রতি মুহূর্তে জলের স্তর বাড়ছে। নদীগুলির জলস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, খানাকুল, জাঙ্গিপাড়া এবং উদয়নারায়ণপুরে নদীর জল বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হওয়া সত্ত্বেও রাজ্যবাসীকে বড় আশার বাণী শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, এত প্রবল জলের তোড় থাকা সত্ত্বেও দামোদর নিম্ন অববাহিকায় এখনও কোনও বাঁধ ভাঙেনি, আর এটাই আমাদের প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়। সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সমস্ত পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের মালদা জেলার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের বক্তব্যের সিংহভাগ জুড়ে মালদার জন্য বিশেষ বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের উদ্বেগের জায়গা মানিকচকের ভূতনি। পরপর তিন বছর ওখানে ভাঙনের জন্য ক্ষতি হয়েছে।” তিনি জানান, গঙ্গা ভাঙনের জেরে ভূতনির প্রায় ১৯টি গ্রাম বর্তমানে জলমগ্ন। সেখানকার পরিস্থিতি সরাসরি তদারকি করার জন্য সেচ প্রতিমন্ত্রী জুয়েল মুর্মু এবং স্থানীয় বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিভিসি (DVC)-র জল ছাড়া নিয়ে অতীতে হওয়া ‘ম্যান মেড বন্যা’-র তত্ত্বকে একপ্রকার খারিজ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে জলাধার থেকে জল ছাড়তেই হবে। তবে ডিভিসি-র সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে জল ছাড়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে এবং বিকেলের পর থেকে জলস্তর ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।