প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তাহলে কি জমানা বদলাতেই এবার খোলনলচে বদলে যাচ্ছে শৈবতীর্থ তারকেশ্বরের? মেলা মানেই কি আর শুধু একশ্রেণীর ভোটব্যাংক, নাকি সনাতন সংস্কৃতির মহাসমাবেশ? আজ হুগলির তারকেশ্বরে দাঁড়িয়ে ঠিক এই প্রশ্নটাই যেন তুলে দিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! আর তাতেই রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে শুরু হয়ে গেছে তীব্র আলোড়ন।আসন্ন শ্রাবণী মেলা নিয়ে এদিন তারকেশ্বরে পা রেখেই জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে হাইভোল্টেজ বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। আর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি যে কড়া অবস্থান নিয়েছেন, তাকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন নজিরবিহীন!
সাধারণ পুণ্যার্থীরা মাইলের পর মাইল হেঁটে এসে লাইনে দাঁড়াবেন, আর তথাকথিত ভিআইপিরা পিছনের দরজা দিয়ে পুজো দিয়ে চলে যাবেন—এই চেনা ছবি নাকি আর দেখা যাবে না তারকেশ্বরে! মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের দর্শনের সুবিধার্থে মন্দির চত্বরে কোনও ‘ভিআইপি কালচার’ বা বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে না। পুণ্যার্থীদের জন্য কোনও বিধিনিষেধ থাকবে না। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, পূর্বতন কমিটির কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করে এদিনই বর্তমান তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা পরিষদের এডিএম অনুজ প্রতাপ সিং-কে নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি পবিত্র দুধপুকুর পাড়ের বর্তমান রঙের তীব্র সমালোচনা করে দ্রুত মন্দির চত্বর ও তার আশপাশের এলাকা সংস্কার করার জন্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন—ধর্মীয় স্থান নিয়ে কোনওরকম খামখেয়ালিপনা বরদাস্ত করবে না তাঁর সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন মনে করিয়ে দিয়েছেন এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ১৯৪৭ সালের ২০ শে জুন এই তারকেশ্বরের মাটিতেই বাংলা তথা ভারতের অন্তর্ভুক্তির রেজুলেশন পাশ হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করে আগামী ২০ শে জুন সরকারের বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত, বুধবারের ক্যাবিনেট বৈঠকের পর নবান্ন থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা করা হতে পারে। এরই পাশাপাশি, চলতি জুন মাসের ২০ তারিখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্ভাব্য তারকেশ্বর সফরকে কেন্দ্র করে ধনেখালি ও তারকেশ্বরের বিভিন্ন সভাস্থলগুলিও নিজে দাঁড়িয়ে থেকে খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন যখন তারকেশ্বরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সনাতন সংস্কৃতির ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের কথা বলছেন, ঠিক তখনই কলকাতার ধর্মতলায় চলছে তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না কর্মসূচি। আর এই প্রসঙ্গেই বিরোধী শিবিরকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এই আক্রমণের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন—সস্তা রাজনীতির চেয়ে জনকল্যাণ ও রাজ্যের কৃষ্টি রক্ষা করাই এখন তাঁর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া প্রশাসনিক দাওয়াই এবং ২০ জুনের ‘মেগা প্ল্যান’ রাজ্যের রাজনীতিতে কী নতুন মোড় আনে।