প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু অতীত জমানার দুর্নীতির কঙ্কালগুলো কি এক এক করে বেরোতে শুরু করল? এবার খাস কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে উদ্ধার হলো ব্যাগ ভর্তি লক্ষাধিক টাকা! তাও আবার যেমন তেমন টাকা নয়, উঁইপোকায় খাওয়া নোটের বান্ডিল! যে টাকা সাধারণ পড়ুয়াদের কল্যাণে কাজে লাগতে পারত, সেই টাকা কেন ইউনিয়ন রুমের আলমারিতে বছরের পর বছর ধরে পচছিল? কার মদতে এই ‘যকের ধন’ আড়াল করা হয়েছিল? আজ এই নিয়েই উঠছে একাধিক সবিনয় প্রশ্ন।

মঙ্গলবার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুমের একটি আলমারি খুলতেই চোখ চড়কগাছ হয়ে যায় উপস্থিত সকলের। উদ্ধার হয় দুটি ব্যাগ। আর সেই ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে আসে থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল। কিন্তু চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সেই টাকার একটা বড় অংশই উঁইপোকায় কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। পুলিশ ইতিমধ্যেই টাকা বাজেয়াপ্ত করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি কলেজের ছাত্র সংসদের ঘরে এত টাকা এল কোথা থেকে?

আমাদের পোর্টালের পক্ষ থেকে আজ শিক্ষা প্রশাসন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে রইল কয়েকটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু জরুরি প্রশ্ন। প্রথম প্রশ্ন: কলেজের ইউনিয়ন রুম কি কোনো ব্যাঙ্কের লকার? সেখানে লক্ষাধিক টাকা ক্যাশ রাখার এক্তিয়ার কার ছিল? দ্বিতীয় প্রশ্ন: টাকাগুলোর এই দশা দেখে স্পষ্ট যে এগুলি বহু পুরনো। তাহলে কি অতীত জমানার কোনো আর্থিক অনিয়ম বা তোলাবাজির টাকা ধামাচাপা দিতেই এগুলি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল? তৃতীয় প্রশ্ন: সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরা যখন পড়ার খরচের জন্য হিমশিম খেয়েছে, তখন ছাত্র সংসদের ঘরে এই বিপুল পরিমাণ টাকা পড়ে পড়ে নষ্ট হওয়া কি কোনো গভীর সিন্ডিকেট রাজের দিকে ইঙ্গিত করছে না? রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এই ঘটনা আসলে বিগত শিক্ষাব্যবস্থার অন্দরে শিকড় গেড়ে বসা দুর্নীতিরই একটি খণ্ডচিত্র। শাসনভার পাল্টালেও অতীতের এই সমস্ত আর্থিক নয়ছয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা তদন্তে পুলিশকে সবরকম সহযোগিতা করছে। তবে সাধারণ মানুষ জানতে চায়, এই টাকার আসল মালিক কে? উঁইপোকা তো শুধু কাগজ খেয়েছে, শিক্ষার ভবিষ্যৎ যারা খেয়েছে, তাদের আসল পরিচয় কবে সামনে আসবে? তদন্তের গতিপ্রকৃতির দিকে নজর থাকবে আমাদের পোর্টালের।