প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পঞ্চায়েত থেকে পৌরসভা— প্রশাসনের তৃণমূল স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার নজিরবিহীনভাবে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী। কাটমানি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে যুক্ত জনপ্রতিনিধিদের কার্যত চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “যাঁরা চুরি করেছেন, তাঁরা অবিলম্বে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন।”প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিশেষ করে ১০০ দিনের কাজ এবং আবাস যোজনার মতো জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। এই প্রেক্ষাপটেই মুখ্যমন্ত্রী কড়া অবস্থান নিয়ে জানান, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, দুর্নীতি নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।
তীব্র কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বহু জনপ্রতিনিধি কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার ভয়ে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ার আশঙ্কায় এলাকাছাড়া হয়ে রয়েছেন। তাঁরা ভয়ে পঞ্চায়েত বা পৌরসভার কার্যালয়ে পর্যন্ত যেতে পারছেন না। এই ধরনের পলাতক মানসিকতাকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি নির্দেশ দেন, “যদি কার্যালয়ে যাওয়ার সাহস না থাকে, তবে নিরুদ্দেশ হয়ে না থেকে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন।”
নবান্ন সূত্রে খবর, এই ধরনের আর্থিক জালিয়াতি রুখতে রাজ্য সরকার অত্যন্ত কঠোর আইনি পদক্ষেপ করতে চলেছে। আগামী দিনে সরকারি অর্থ চুরির অভিযোগে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য নতুন আইন আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা রাজ্যের দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা ও জনপ্রতিনিধিদের ওপর যে এক বিরাট মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই কড়া বার্তার পর কতজন জনপ্রতিনিধি পদত্যাগ করেন বা আইনের মুখোমুখি হন।