প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নতুন ঝড়। গুজরাটের সুরাত থেকে বিশেষ ট্রেনে করে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি—এমনটাই অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের (ECI) দ্বারস্থ হলো তৃণমূল কংগ্রেস। বিষয়টিকে স্রেফ ‘সহযোগিতা’ নয়, বরং ভোটারদের সরাসরি ‘ঘুষ’ দেওয়া এবং নির্বাচনী বিধিভঙ্গের (MCC) শামিল বলে দাবি করেছে জোড়াফুল শিবির।
তৃণমূলের অভিযোগ, ভোট প্রক্রিয়ার মাঝেই সুরাত থেকে বাংলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের আনার জন্য বিশেষ ট্রেনের বন্দোবস্ত করেছে বিজেপি। এই মর্মে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল এভাবে ট্রেন ভাড়া করে বা ট্রেনের ব্যবস্থা করে ভোটারদের যাতায়াত, খাওয়া-দাওয়ার খরচ বহন করতে পারে না।
ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর চিঠিতে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারাগুলি উল্লেখ করে জানিয়েছেন। বিনামূল্যে ট্রেন সফরের ব্যবস্থা করা ভোটারদের প্রলুব্ধ করা বা ‘ঘুষ’ দেওয়ার সমান। কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা রেলওয়েকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।
তৃণমূলের দাবি, এই বিশেষ ট্রেনগুলির সমস্ত খরচ সংশ্লিষ্ট বিজেপি প্রার্থীদের নির্বাচনী খরচের সাথে যুক্ত করা হোক এবং কমিশন অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হস্তক্ষেপ করুক।
পাল্টা যুক্তিতে বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, এটি কোনো রাজনৈতিক চাল নয়। পরিযায়ী শ্রমিকরা বাংলার নাগরিক এবং তাঁরা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে রাজ্যে ফিরছেন। রেলের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ভিড় সামলাতে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ‘সামার স্পেশাল’ ট্রেন চালানো হচ্ছে।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা দল যদি ভোটারদের যাতায়াত খরচ বহন করে, তবে সেটি ‘দুর্নীতিমূলক কাজ’ (Corrupt Practice) হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ যদি একে সাধারণ স্পেশাল ট্রেন হিসেবে প্রমাণ করতে পারে, তবে আইনি লড়াই ভিন্ন মোড় নিতে পারে।
আপাতত কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। এই ‘ভোট-ট্রেন’ বিতর্ক শেষ পর্যন্ত আইনি গেরোয় পড়ে কি না, নাকি শ্রমিকরা নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।