প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-জুলাই মাসের প্রথম দিনেই দেশের ব্যবসায়ী ও রেস্তোরাঁ মালিকদের জন্য বড়সড় সুখবর। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বরফ গলার ইতিবাচক প্রভাব পড়ল ভারতের জ্বালানি বাজারে। দীর্ঘ উত্তেজনার পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই কমেছে। আর তার সুফল হিসেবেই আজ, ১ জুলাই থেকে ভারতে এক লাফে অনেকটাই সস্তা হলো ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার।

চলতি বছরের মধ্যে এই প্রথম বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম এক লপ্তে এতটা কমাল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। তবে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কমলেও মধ্যবিত্তের রান্নাঘরের বাজেটে কোনো বদল আসেনি; ১৪.২ কেজির ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম এবারও সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তিলোত্তমায় আজ থেকে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৭৪ টাকা হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে আগের ৩,২৫৫ টাকা ৫০ পয়সার সিলিন্ডার এখন থেকে পাওয়া যাবে ৩,০৮১ টাকা ৫০ পয়সায়। উৎসবের মরশুমের আগে এই সিদ্ধান্ত শহরের হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ছোট ব্যবসায়ীদের বড়সড় স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শুধু কলকাতাই নয়, দেশের রাজধানী দিল্লিতেও বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম কমেছে রেকর্ড হারে। দিল্লিতে সিলিন্ডার প্রতি ১৮৩ টাকা ৫০ পয়সা দাম কমানো হয়েছে। ফলে সেখানে আগের ৩,১১৩ টাকা ৫০ পয়সার সিলিন্ডার আজ থেকে মিলবে মাত্র ২,৯৩০ টাকায়।বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সফলতাই এই দাম কমার মূল চাবিকাঠি। হরমূজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের সংকট কেটেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারেও। তবে সাধারণ মানুষের জন্য ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দামে স্বস্তি না মেলায় একাংশ কিছুটা হতাশ হলেও, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এই মূল্যহ্রাস বাজারে অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।