প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে একের পর এক রাজনৈতিক রক্তপাত ও আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রতিবাদে সরাসরি পুলিশের রাজ্য সদর দফতরে হানা দিল কংগ্রেস। নদীয়ার নাকাশিপাড়ায় কংগ্রেস নেতা ও তাঁর যুবনেতা পুত্রকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে-গুলি করে খুন এবং দিল্লির সিজেপি (CJP) আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অপরাধে এরাজ্যে আন্দোলনকারীর বাবাকে পিটিয়ে মারার ঘটনার প্রতিবাদে আজ, সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) এক ঐতিহাসিক ‘ভবানী ভবন অভিযান’-এর ডাক দেয় প্রদেশ কংগ্রেস। নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে হাজার হাজার কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের এই প্রতিবাদী মিছিল আলিপুরের ভবানী ভবনের দিকে রওনা হলে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা।

কংগ্রেসের আজকের এই অভিযানের মূল কারণ গত ৪৮ ঘণ্টায় ঘটা একাধিক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। স্বাধীনতা দিবসের রাতে নদীয়ার নাকাশিপাড়ার বেথুয়াডহরিতে প্রাক্তন কংগ্রেস ব্লক সভাপতি আনিসুর রহমান এবং তাঁর ২৪ বছর বয়সী ছেলে আবু সুফিয়ানকে গাড়ি আটকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তৃণমূলের এক অঞ্চল প্রধানসহ তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এর পাশাপাশি মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে যে, দিল্লিতে সিজেপি (CJP) সংগঠনের ব্যানারে হওয়া গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অপরাধে এক আন্দোলনকারীর বাবাকে এরাজ্যে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। এই ‘তিন খুনের’ প্রতিবাদেই আজ রাজপথে নামে কংগ্রেস।

সোমবার দুপুরে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলি থেকে আসা হাজার হাজার কংগ্রেস কর্মী ভবানী ভবনের অদূরে জড়ো হন। মিছিলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন স্বয়ং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। মিছিল ভবানী ভবনের মূল গেটের দিকে এগোতেই বিশাল পুলিশ বাহিনী লোহার ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকায়।ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই পুলিশের সঙ্গে কংগ্রেস কর্মীদের তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে এবং বেশ কয়েকজন কংগ্রেস কর্মীকে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট বা আটক করা হয়। রাজপথেই বসে পড়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন ক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতারা।

ভবানী ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলে বলেন:”নাকাশিপাড়ার আইসি (IC) সব জেনেও হাত গুটিয়ে বসেছিলেন। আনিসুরের পরিবার আগাম আশঙ্কার কথা জানানো সত্ত্বেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? অপরাধীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যা গোটা বাংলা মনে রাখবে।” প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরীও এই নিয়ে কড়া বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন যে, রাজ্যে পুলিশ এখন নিরপেক্ষতা হারিয়ে অপরাধীদের আড়াল করার কাজ করছে। কংগ্রেসের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে নাকাশিপাড়ার আইসি-কে সাসপেন্ড করতে হবে, এই তিন খুনের ঘটনার নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করতে হবে এবং নাকাশিপাড়ার ঘটনায় নিহতের পরিবারকে ১ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভবানী ভবনের এই মেগা অভিযানকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুলিশের সদর দফতর আলিপুরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।