প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই যিনি এলাকাছাড়া ছিলেন, অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন সেই হাইপ্রোফাইল নেতা। বুধবার দুপুরে এক নাটকীয় অভিযানে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হলো তৃণমূল কংগ্রেসের সদ্য প্রাক্তন কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা কোচবিহার পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অভিজিৎ দে ভৌমিক ওরফে হিপ্পিকে। তাঁর বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলা, আর্থিক প্রতারণা ও হুমকির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতেই এই হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গ জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালের আগস্ট মাসে কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি এলাকায় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বুলেটপ্রুফ গাড়ি লক্ষ্য করে ব্যাপক ভাঙচুর ও ইটবৃষ্টির ঘটনা ঘটেছিল। সেই সুপরিকল্পিত হামলার মামলায় মূল অভিযুক্তদের তালিকায় নাম ছিল অভিজিৎ দে ভৌমিকের। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধুমাত্র কনভয়ে হামলাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় তোলাবাজি, আর্থিক প্রতারণা এবং সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক নতুন মামলা রুজু হয়েছিল কোতোয়ালি থানায়।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যে প্রশাসনিক বদল আসতেই তিনি গ্রেফতারির আশঙ্কায় এলাকা ছেড়েছিলেন। এর আগে জুন মাসে তাঁর বাড়িতে তল্লাশিও চালিয়েছিল পুলিশ, কিন্তু তখন তিনি নাগালের বাইরে ছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে, অভিজিৎ দে ভৌমিক বাগডোগরা বিমানবন্দর হয়ে অন্যত্র পালানোর বা যাতায়াতের চেষ্টা করছেন। সেই খবরের ভিত্তিতেই কোচবিহার কোতোয়ালি থানার একটি বিশেষ দল ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে বিমানবন্দরে ওত পাতে এবং তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করে। গ্রেফতারের পর আজ বিকেল ৫টা নাগাদ কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে কোচবিহার কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবারই তাঁকে কোচবিহার আদালতে তোলা হবে এবং নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী সংগঠক হিসেবে পরিচিত এই নেতার পতন বিরোধী তৃণমূল শিবিরের জন্য এক বড় ধাক্কা। রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দে থাকা শাসক দল বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, “আইন নিজের পথে চলছে, অপরাধীদের কোনো ছাড় হবে না।” অন্যদিকে, এই গ্রেফতারির টাইমলাইন ও নেপথ্যের কারণ নিয়ে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।