প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তপ্ত জুলাইয়ের দুপুরে নজিরবিহীন এবং চরম নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বাজেট অধিবেশন চলাকালীন দুই বিধায়কের সংঘাত এমন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছাল যে, শেষ পর্যন্ত মার্শাল ডেকে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে আক্ষরিক অর্থেই ‘টেনে-হিঁচড়ে’ এবং ‘চ্যাংদোলা’ করে কক্ষের বাইরে বের করে দেওয়া হলো। এই নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার জেরে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু কুণাল ঘোষকে আজকের দিনের জন্য হাউস থেকে সরাসরি সাসপেন্ড করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট আলোচনায় বক্তব্য রাখার তালিকায় প্রথমে নাম ছিল কুণাল ঘোষের। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান পরবর্তীতে সেই তালিকা থেকে তাঁর নাম কেটে বাদ দিয়ে দেন। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বেলেঘাটার বিধায়ক। আখরুজ্জামান বক্তব্য রাখতে উঠলে কুণাল ঘোষ নিজের আসন ছেড়ে সোজা তাঁর মাইকের সামনে চলে যান এবং তাঁকে বলতে বাধা দিতে থাকেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে দুই নেতার মধ্যে কার্যত মারমুখী ও হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়।

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু বারবার কুণাল ঘোষকে নিজের আসনে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ ও হুঁশিয়ারি দেন। কিন্তু সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত না করায় শেষ অস্ত্র প্রয়োগ করেন স্পিকার।

স্পিকারের নির্দেশের পরেই বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন মার্শালরা। কুণাল ঘোষ নিজে থেকে হাউস ছাড়তে অস্বীকার করলে মার্শালরা তাঁকে জোরপূর্বক ধরে চ্যাংদোলা করে বিধানসভা কক্ষের বাইরে বের করে নিয়ে যান। টানাহেঁচড়ার চোটে একসময় তিনি অধিবেশন কক্ষের মেঝেতেও পড়ে যান। এই ঘটনার পর ক্ষমতাসীন দল বিজেপির মন্ত্রী ও বিধায়কদের উপস্থিতিতে স্পিকার কুণাল ঘোষকে আজকের দিনের জন্য হাউস থেকে বহিষ্কার বা সাসপেন্ড করার চূড়ান্ত ঘোষণা করেন।

এই নজিরবিহীন ঘটনা নিয়ে বিধানসভার অন্দরে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনার পর ওয়েলে নেমে কড়া প্রতিবাদ জানান ক্ষমতাসীন দল বিজেপির মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ ও উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সহ অন্য বিধায়করা। বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরাও আগে বিরোধী আসনে ছিলাম, কিন্তু কিছু দায়িত্ব থাকে। আখরুজ্জামান একজন প্রবীণ বিধায়ক, তাঁর সঙ্গে এই আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়।” এদিকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা মূলত বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ ফাটল এবং ক্ষমতার অলিন্দে থাকা রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও একবার প্রকাশ্যে নিয়ে এলো।