প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সন্ধ্যা ৬টা! তার এক মিনিট এদিক বা ওদিক হওয়ার জো নেই। কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে আজই সিআইডি-র সদর দফতর ভবানীভবনে হাজিরা দিতে হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কোনো রাজনৈতিক দাপট নয়, কোনো টালবাহানা নয়—আইনের নিখুঁত বাউন্ডারিতে বন্দি হয়ে খোদ অভিষেকের আইনজীবী আদালতে দাঁড়িয়ে জানিয়ে দিলেন, বিকেল ৪টেয় বিমানবন্দর থেকে নেমেই সোজা ভবানীভবনের গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকবেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।একদিকে আইনি মারপ্যাঁচে সুরক্ষার মরিয়া চেষ্টা, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য এজেন্সির সাঁড়াশি চাপ। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, তবে কি সই জাল কাণ্ডের খাঁড়া এবার সত্যিই অনেক গভীরে নামতে চলেছে?

আইনি লড়াইয়ের মঞ্চে আজ কার্যত ব্যাকফুটে থাকা অভিষেক শিবিরের শরীরী ভাষা ছিল দেখার মতো। সিআইডি-র গোয়েন্দারা যদি ম্যারাথন জেরা করতে চান, তাতেও যে তাঁদের মক্কেল পিছপা হবেন না, তা আদালতে আগাম স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিষেকের আইনজীবী। হাইকোর্টের এজলাসে দাঁড়িয়ে সওয়াল, “সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তদন্ত চললেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থাকতে প্রস্তুত।” প্রশ্ন উঠছে, এই আগাম বয়ান কি সিআইডি-র সম্ভাব্য ‘ম্যারাথন টর্চার’ সামলানোর আগাম মানসিক ডিফেন্স, নাকি আদালতের চোখে ভালো সাজার একটা শেষ চেষ্টা? যদিও এর সমান্তরালেই, মামলার মূল এফআইআর (FIR) যাতে কোনোভাবে এক লপ্তে খারিজ করা যায়, তার জন্য পাল্টা একটি নতুন মামলাও ঠুকে দিয়েছেন অভিষেক। আইনি পরিভাষায় যাকে বলে ‘ডাবল প্রোটেকশন’ নেওয়ার শেষ চেষ্টা।

কলকাতা হাইকোর্ট আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ৩ সপ্তাহের জন্য গ্রেফতারির ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই স্বস্তির গায়ে লেপ্টে রয়েছে এক বিরাট বড় শর্ত। বিচারপতি কৌশিক চন্দ এজলাসে দাঁড়িয়ে সাফ এবং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “তদন্তে সহযোগিতা করলে তবেই রক্ষাকবচ দেব।” সোজা বাংলায়, সিআইডি-র টেবিলে বসে যদি বয়ানে কোনো অসঙ্গতি মেলে বা কোনো প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়, তবে সুরক্ষার এই আইনি দেওয়াল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে এক মুহূর্ত সময় লাগবে না।

সবচেয়ে বড় বোমাটি কিন্তু আজ ফাটিয়েছে সরকারি আইনজীবী এবং পুলিশ প্রশাসন। আদালতে পুলিশের সওয়াল ছিল দেখার মতো। সিআইডি-র দাবি, এই সই জাল মামলার আসল ‘রেজলিউশন বুক’ নাকি অন্য কোথাও নয়, স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরের আলমারিতেই বন্দি হয়ে রয়েছে! আর সেই আসল ক্রুসিয়াল নথি সিআইডি-র হাতে তুলে না দেওয়ার কারণেই নাকি গোটা তদন্তের চাকা স্তব্ধ হয়ে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। পুলিশ তো আদালতে দাঁড়িয়ে সোজা দাবি তুলে দিয়েছে যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেফাজতে নিয়ে জেরা না করলে সই জালের আসল রহস্য কোনোদিনও দিনের আলো দেখবে না। সব মিলিয়ে, আজ সন্ধ্যা ৬টার ভবানীভবন অভিযান শুধু একটা রুটিন হাজিরা নয়। আইনের দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটার এক চরম অগ্নিপরীক্ষা। এখন দেখার, সিআইডি-র ঘরের এসি-র ঠাণ্ডা হাওয়ায় বসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসল রেজলিউশন বুকের জট খোলেন, নাকি সই জালের এই আইনি কাঁটা তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারকে আরও বড় খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করায়। নজর থাকবে ভবানীভবনের গেটে।