প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- সিপিএম খুব ভালো মতই জানে, রাজ্য রাজনীতিতে এখন তারা অপ্রাসঙ্গিক। তাই ক্ষমতায় আসা তো দূরের কথা, রাজ্য রাজনীতিতে যদি একটি আসনও পেতে হয়, তাহলে একা তারা যদি লড়াই করে, তাহলে তাদের ওপর কোনো মানুষ ভরসা করবে না। তাই এখন যেভাবেই হোক, খড়কুটো নিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে দীর্ঘদিন রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা এই সিপিএম দল। কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের যে জোট হচ্ছে না, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। অন্য দিকে হুমায়ুন কবীর, যিনি নতুন দল গঠন করেছেন, তার সঙ্গে জোট করার একটা সম্ভাবনা থাকলেও সেই সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীন হয়ে আসছে। তবে এখন একটাই সম্ভাবনা রয়েছে, আইএসএফের সঙ্গে সিপিএমের জোট নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে গতকাল মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে নওশাদ সিদ্দিকীর। কিন্তু এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই খবর পাওয়া যাচ্ছে। আর এখানেই প্রশ্ন, ভোটের দিন ঘোষণা হওয়া তো শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। আর কবে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা?
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ক্রমশ ঘোরালো হয়ে উঠছে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তৃণমূলের সঙ্গেই যে এবার বিজেপির প্রধান লড়াই হচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ভোট কাটাকুটিতে কোন দল কতটা সিদ্ধহস্ত, তার দিকে নজর রয়েছে রাজ্যবাসীর। এক্ষেত্রে হুমায়ুন কবীরের নতুন দল থেকে শুরু করে বামেরা কার সঙ্গে জোটে যাচ্ছে, এমনকি সংখ্যালঘু ভোট, যেটা তৃণমূলের সবথেকে বড় সম্বল, সেই ভোট কাটতে আইএসএফ এবং বামেরা যদি জোট করে, তাহলে কতটা সমর্থ হবে, তার দিকেও অনেকের নজর রয়েছে। আর এর মধ্যেই বিজেপির একটা অংশ চাইছে যে, বাম, আইএসএফ সহ যারা সংখ্যালঘু ভোট টানতে পারবে, তারা জোট করুক। এক্ষেত্রে তৃণমূল অনেকটাই চাপে পড়ে যেতে পারে। কারণ সেই জোট হলে তারা সংখ্যালঘুদের ভোট পাবে না। তবে শেষ পর্যন্ত এই বামেদের সঙ্গে আইএসএফের জোট নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও পর্যন্ত কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই জানিয়ে দিলেন নওশাদ সিদ্দিকী।
সূত্রের খবর, গতকাল এই জোট নিয়ে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক হয় নওশাদ সিদ্দিকীর। আর সেখানেই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর। কিন্তু এই বৈঠকেই সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যায়নি। এখনও আলোচনার অবকাশ রয়েছে। তবে দ্রুততার সঙ্গে সেই আলোচনা করলেই ভালো হয় বলেই মনে করছেন নওশাদ সিদ্দিকী। এক্ষেত্রে আইএসএফের যে সমস্ত শক্ত ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে তারা কোনোমতেই সিপিএমকে আসন ছাড়তে রাজি নয় বলেই জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার আলোচনার পর কবে পাকাপাকিভাবে জোটের রাস্তায় হাটে সিপিএম এবং আইএসএফ, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।