প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-জাতীয় রাজনীতির ভরকেন্দ্র এখন তপ্ত রাজধানী দিল্লি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মসনদে বসার পর প্রথমবার পা রেখেই দিল্লিতে কার্যত ঝড় তুললেন শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল রাতে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে তাঁর দীর্ঘ ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। জল্পনা, গুঞ্জন আর কৌতূহলের পারদ এখন আকাশছোঁয়া! বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দিল্লির অলিন্দে বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বিমানবন্দরে পা রাখতেই বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে এক রাজকীয় ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সেখান থেকে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে তিনি সোজা চলে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কৃষ্ণ মেনন মার্গের সরকারি বাসভবনে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা এই দুই হেভিওয়েট নেতার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বাংলার ভবিষ্যতের এক মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হয়েছে বলে খবর। সূত্র বলছে, মূলত দুটি প্রধান বিষয়ে চূড়ান্ত রণকৌশল সাজানো হয়েছে। বাংলায় কীভাবে দ্রুত আইনের শাসন কায়েম করা যায় এবং দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নিখুঁত ব্লু-প্রিন্ট ভাগ করে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা যাতে চিতার গতিতে বাংলার প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের দুয়ারে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে শাহের গ্রিন সিগন্যাল মিলেছে এই বৈঠকেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই ঝোড়ো দিল্লি সফর এবং নেমেই প্রথম রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, দিল্লির দরবারে এখন বাংলার গুরুত্ব কতটা আকাশচুম্বী। রাজ্যকে নতুন দিশা দেখাতে এবং আইনশৃঙ্খলার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে শাহ-শুভেন্দু রসায়ন যে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নিতে চলেছে, তা এই বৈঠক থেকেই স্পষ্ট।সব মিলিয়ে, বাংলায় যে এক ঐতিহাসিক এবং অভূতপূর্ব প্রশাসনিক যুগের সূচনা হতে চলেছে, গতকাল রাতের এই শাহী বৈঠক যেন সেই বার্তার ওপরেই চূড়ান্ত সিলমোহর দিয়ে দিল।