প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদলে রণংদেহি মেজাজে ভারতের নির্বাচন কমিশন। গত কয়েক দিনে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপিকে সরানোর পর এবার বড়সড় কোপ পড়লো পুলিশি প্রশাসনের মধ্যস্তরে। বুধবার এক ধাক্কায় রাজ্যের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জের ডিআইজিকে সরিয়ে দিলো কমিশন। নবান্নের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত এই অফিসারদের অপসারণে প্রশাসনিক মহলে রীতিমত কম্পন শুরু হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের পাঁচটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ রেঞ্জে নতুন মুখ আনা হয়েছে। যেখানে মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সুধীর কুমার নীলকান্তমকে। তাঁর জায়গায় নতুন ডিআইজি হলেন অজিত সিংহ যাদব। রায়গঞ্জ রেঞ্জে সন্তোষ নিম্বালকারকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০০৯ ব্যাচের আইপিএস রাঠৌর অমিতকুমার ভরতকে। বর্ধমান রেঞ্জে আলোক রাজোরিয়ার স্থলাভিষিক্ত হলেন শ্রীহরি পাণ্ডে। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জে ভাস্কর মুখোপাধ্যায়কে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কঙ্কর প্রসাদ বারুইকে এবং জলপাইগুড়ি রেঞ্জে ডঃ ভোলানাথ পাণ্ডেকে সরিয়ে নতুন ডিআইজি হিসেবে আনা হয়েছে অঞ্জলি সিংকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ কেবল রুটিন বদলি নয়, বরং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এক বিশাল প্রশাসনিক ‘সার্জারি’। কেননা গত ৭২ ঘণ্টায় যে পরিসংখ্যান উঠে আসছে তা নজিরবিহীন। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরানো হয়েছে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে। অপসারিত হয়েছেন রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি পীযূষ পাণ্ডে এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার। গত মঙ্গলবারই দুই এডিজি, ৪ জন পুলিশ কমিশনার এবং ১২ জন এসপি সহ মোট ১৯ জন আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। আর বুধবারের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, নিচুতলা থেকে ওপরতলা—কোথাও ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট’ অফিসারদের রেয়াত করতে নারাজ কমিশন।
বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিল যে, রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন শাসকদলের ‘ক্যাডার’ হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ এবং উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বারবার সরব হয়েছে বিরোধীরা। স্বাভাবিক ভাবেই কমিশনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির বক্তব্য, এর মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সিন্ডিকেট’ ভেঙে দিল কমিশন।কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, যে সমস্ত অফিসারদের সরানো হয়েছে, তারা নির্বাচনের কোনো প্রক্রিয়ার সঙ্গেই যুক্ত থাকতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার মধ্যে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘দিদির সাজানো বাগান’ যেভাবে তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ছে, তাতে ভোটের আগে চাপে শাসক শিবির। এখন দেখার, এই প্রশাসনিক কড়াকড়ির পর বাংলার ভোট কতটা ‘রক্তপাতহীন’ হয়।