প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজনীতির ময়দানে লড়াই শুরুর আগেই কি তৃণমূল শিবিরের অন্দরে কাঁপুনি শুরু হয়ে গিয়েছে? নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—এই দুই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর প্রার্থী হওয়ার খবরে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের ‘পরাজয়’ তত্ত্ব নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। যে নন্দীগ্রামে ২০২১ সালে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে ১৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে পর্যুদস্ত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, সেখানে দাঁড়িয়ে কুণালবাবুর এই আত্মবিশ্বাসকে নিছক ‘হাস্যকর’ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। প্রশ্ন উঠছে, নন্দীগ্রামের সেই কাঁটা কি আজও বিঁধছে?
তথ্য বলছে, ২০২১-এর মহারণে শুভেন্দু অধিকারী ১,১০,৭৬৪ ভোট পেয়েছিলেন, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলিতে এসেছিল ১,০৮,৮০৮ ভোট। যেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী হেরে যাওয়ার পর থেকে তৃণমূলের সেই ক্ষত আজও শুকোয়নি। এবারও নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেই দাবি পদ্ম শিবিরের। অন্যদিকে ভবানীপুর উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৮,৮৩৫ ভোটের ব্যবধানে জিতলেও, ২০২১-এর মূল নির্বাচনে বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষ ৪৪,৭৮৬ ভোট পেয়ে তৃণমূলকে কড়া টক্কর দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি লড়াইয়ে নামায় সমীকরণ আমূল বদলে যেতে পারে। যে ভবানীপুরকে তৃণমূল ‘নিরাপদ কেল্লা’ মনে করছে, সেখানে শুভেন্দুর মত দুঁদে সংগঠকের এন্ট্রি কি শাসক দলের রাতের ঘুম কেড়ে নিলো?
কুণাল ঘোষ বলছেন, শুভেন্দু নাকি দুই কেন্দ্রেই হারবেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— যিনি এক কেন্দ্রে লড়েই মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়েছেন, তিনি দু’টি কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়া মানে কি তৃণমূলের জন্য বড় বিপদের সংকেত নয়? ‘বড় মুখ করে’ জয় ঘোষণা না করে বরং কুণালবাবুদের উচিত ২০২১-এর নন্দীগ্রামের সেই পরিসংখ্যানগুলো আর একবার ঝালিয়ে নেওয়া। ভবানীপুর থেকে নন্দীগ্রাম— ২০২৬-এর লড়াইটা যে মোটেও সহজ হবে না, সেটা তৃণমূলের আগ্রাসী মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট।