প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে (Jadavpur University) ঘিরে ফের তুঙ্গে উঠল রাজ্য রাজনীতির পারদ। ক্যাম্পাসে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং আরএসএস অনুগামী অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-র মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এবার অত্যন্ত বিস্ফোরক ও কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের বর্তমান পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কোনো ধরণের “দেশবিরোধী কার্যকলাপ” বা স্লোগান বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ টেনে এনে বিজেপি সরকারের এই মন্ত্রীর সরাসরি হুঙ্কার, “দিল্লির JNU-তেও এমন পরিবেশ ছিল, রাষ্ট্রবিরোধী গতিবিধি চলত। যাদবপুরেও ঘুঘুর বাসা তৈরি হয়েছে। তবে অপারেশন শুরু হয়েছে, ধীরে ধীরে তা চলবে।”

যাদবপুর ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি ২০১৯ সালের বাবুল সুপ্রিয়র ঘটনার পর ক্যাম্পাসে হওয়া রাজনৈতিক ডামাডোলের প্রসঙ্গ মনে করিয়ে দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যদি আবারও ক্যাম্পাসের ভেতরে দেশবিরোধী স্লোগান ওঠে বা কোনো রকম রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধে, তবে ফের সেখানে কড়া সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হবে।” তাঁর দাবি, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমস্ত দেশবিরোধী শক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এখন আর সেটা চলবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ এবং মাদক পাচারের মতো বেআইনি কারবারের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, যাদবপুরের একাংশ ছাত্র ও আন্দোলনকারীরা ভাবেন যে তাঁরা বোধহয় কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বা স্বাধীন ছিটমহলে বসবাস করছেন এবং আইনি ব্যবস্থার ঊর্ধ্বে। দিলীপ ঘোষ বলেন, “পরিবর্তন যখন আসে, তখন সব জায়গায় একটা নড়াচড়া হয়। যাদবপুরকে আর আলাদা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো চলতে দেওয়া যায় না। শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে কড়া হাতে দায়িত্ব নিতে হবে।”

গত বৃহস্পতিবার ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি স্টুডেন্টস Unions (FETSU)-র একটি সাধারণ সভার পর রাতভর দুই ছাত্র শিবিরের মধ্যে ব্যাপক মারামারি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েকজন ছাত্র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই বিশৃঙ্খলা নিয়ে দিলীপ ঘোষ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের দিকে আঙুল তুলে বলেন, ক্যাম্পাসের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল দায় উপাচার্যেরই। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং হিংসার ঘটনা খতিয়ে দেখতে উপাচার্য ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন এবং সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তবে বর্তমান বিজেপি সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীর এই ‘অপারেশন’ ও ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর হুঁশিয়ারি ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক উত্তাপকে যে এক ধাক্কায় বহু গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।