প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- অবশেষে গতকাল ঘোষণা হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্টের। যেখানে দুই দফায় রাজ্যে হতে চলেছে বিধানসভা ভোট। প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে ভোট ঘোষণা থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে আদর্শ আচরণ বিধি। তাই ভোট ঘোষণা হওয়ার আধঘন্টা থেকে এক ঘন্টা আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একাধিক ঘোষণা করেছেন। এতদিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকার পরেও তিনি বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ব্যাপারে কোনো রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। কিন্তু হঠাৎ করেই গতকাল যখন নির্বাচন ঘোষণা হতে চলেছে, ঠিক তার কিছুক্ষণ আগেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবার মিটিয়ে দেওয়া হবে। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই তৎপরতা দেখেই বিরোধীরা দাবি করছেন যে, এবারের নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাই শতাব্দীর সেরা একটা জোকস তিনি এই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মধ্যে দিয়ে দিয়ে দিলেন বলেই দাবি করছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ জনতার মধ্যে পরিবর্তনের যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পারছেন যে, এবার লড়াইটা অত্যন্ত কঠিন। আর এই লড়াই গিয়ে তার পরাজয় যে অবশ্যম্ভাবী, তাও উপলব্ধি করেই একটা শেষ চেষ্টা শুরু করে দিলেন তিনি। গতকাল নির্বাচনের নির্ঘণ্ট যখন ঘোষণা হবে, তার কিছু সময় আগেই তিনি বেশ কিছু ঘোষণা করলেন। পুরোহিত এবং মোয়াজ্জেমদের ৫০০ টাকা করে ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার ব্যাপারেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। আর এখানেই বিরোধীদের প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে তো অনেক দিন আগেই রায় দিয়ে বলা হয়েছে যে, মার্চ মাসের মধ্যেই বকেয়া মহার্ঘভাতা মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু এতদিন তো মুখ্যমন্ত্রীকে সেই ব্যাপারে কোনো সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি গোটা বিষয়টিকে বিচারাধীন বলে এড়িয়ে গিয়েছেন। ফলে নির্বাচন ঘোষনার আগে তার এই ধরনের ঘোষণার কারণ কি? আসলে তিনি ফাঁদে পড়েছেন। তাই নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগে এই ধরনের একটা ঘোষণা করে তিনি সরকারি কর্মচারীদের ভোট পাওয়ার একটা মরিয়া চেষ্টা করলেন বলেই দাবি করছে বিরোধীরা। আর সেই বিষয়েই এবার মুখ্যমন্ত্রীর এই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি, তা এই বছরের সেরা জোকস বলেই দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
এদিন ভোট ঘোষণার কিছু আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি, তা দেখে অনেকেই চমকে যান। এতদিনে কেন মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশ ফিরলো? তাহলে কি তিনি শেষ মুহূর্তে একটা চেষ্টা করছেন, এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় টিকে যাওয়ার? তিনি কি ভাবছেন যে, তিনি নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার আগেই এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি দেবেন? আর তাতেই সরকারি কর্মচারীদের মন গলে যাবে এবং তারা তৃণমূলকে ভোট দেবে? তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা যে বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত হবে না, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি বলেন, “এটা সেরা জোকস। এই বছরের সেরা জোকস হচ্ছে, ভোট ঘোষণার আধঘন্টা আগে ডিএর কথা বলা।”