প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দলীয় তহবিল ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে চলা চরম বিতর্কের মাঝেই এবার বাংলায় বড়সড় অ্যাকশনে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ED)। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতার সল্টলেকসহ মোট ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ডেরায় একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। মূলত জোড়াফুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমানো কোটি কোটি টাকা এবং চার্টার্ড বিমান ব্যবহারে সন্দেহজনক লেনদেনের উৎস খুঁজতেই এই তৎপরতা বলে জানা গেছে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, তৃণমূলের দলীয় তহবিলের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা নিয়ে অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে এই তদন্তের সূত্রপাত। প্রাথমিক অনুসন্ধানে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বিভিন্ন ট্রাভেল এবং অ্যাভিয়েশন কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ১৫০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সন্দেহজনক উপায়ে লেনদেন করা হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের টাকার উৎস কী এবং কোন কোন খাতে তা খরচ হয়েছে, তা জানতেই আজ সল্টলেকের ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ নামক একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার অফিস, তার ডিরেক্টরদের বাড়ি এবং একটি নির্বাচনী ট্রাস্টের অফিসে হানা দেয় ইডি।

ইডি আধিকারিকদের মূল লক্ষ্য হলো, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলোর বর্তমান স্থিতি (Account Status) কী এবং সেখানে এই মুহূর্তে ঠিক কত টাকা রয়েছে তা খতিয়ে দেখা। একই সাথে, ওই অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বর্তমান ‘সিগনেটরি’ বা স্বাক্ষরকারী কারা, সেই সম্পর্কিত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্রও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। তল্লাশি চালানো জায়গাগুলো থেকে বেশ কিছু ডিজিটাল প্রমাণ ও আর্থিক খতিয়ান বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর।

এই মামলার জল ইতিমধ্যেই আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। দলীয় তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসতেই গত মাসে কলকাতা পুলিশ HDFC ব্যাঙ্কে থাকা তৃণমূলের ৩টি প্রধান অ্যাকাউন্টে ‘ডেবিট ফ্রিজ’ বা টাকা তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পুলিশের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ঘাসফুল শিবির। গত ২ জুলাই হাইকোর্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে ওই অ্যাকাউন্টগুলোর আর্থিক স্টেটমেন্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর মাঝেই সম্প্রতি তহবিল মামলার তদন্তে পুলিশের কাছে নিজেদের বয়ান নথিভুক্ত করিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর শিবিরের ৫ জন বিধায়ক। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে ইডি।আজকের এই ঝটিকা অভিযানের পর বাজেয়াপ্ত হওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে কেন্দ্রীয় সংস্থা পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।