প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বাংলার রাজনীতিতে আরও বড় ভাঙন। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল তৃণমূল শিবির ছাড়লেন উত্তরবঙ্গের বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। কালীঘাটের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে তিনি যোগ দিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী দল ‘ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেস’-এ। নতুন এই দলে যোগ দিয়েই তাঁকে কোচবিহার জেলার সভাপতি পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল শিবিরের জন্য অত্যন্ত বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দল ছাড়ার পরেই তৃণমূলের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নাটাবাড়ির এই প্রাক্তন বিধায়ক। দলবদল প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ সরাসরি নিশানা করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ এবং ভোটকুশলী সংস্থাকে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালো মানুষ, কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আই-প্যাক (I-PAC) দলের এই পরিণতির জন্য দায়ী।” তাঁর অভিযোগ, বর্তমান তৃণমূলে পুরনো ও ত্যাগী কর্মীদের কোনও মূল্যায়ন নেই। সমস্ত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমোর উদ্দেশ্যে এক বিস্ফোরক বার্তা দিয়ে তিনি দাবি করেন, “দিদি যদি দল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেন, তবে অনেক পুরনো নেতাই আবার তাঁর কাছে ফিরে যেতে পারেন।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের কোচবিহার তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নিজস্ব একটি বড় ভিত্তি রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে নাটাবাড়ি কেন্দ্রে তাঁকে টিকিট না দিয়ে নতুন মুখ নিয়ে আসায় দলের অন্দরে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, এই দলবদল তারই চূড়ান্ত পরিণতি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে তাঁর এই অন্তর্ভুক্তি উত্তরবঙ্গে মূল তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামাতে পারে।