প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক সভার রেশ কাটতে না কাটতেই হুগলি জেলা রাজনীতিতে এক প্রকাণ্ড চাঞ্চল্য। সভা সেরে ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তরপাড়া থানার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন কোন্নগর পুরসভার প্রাক্তন পুর-প্রশাসক তথা প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তন্ময় দেব ওরফে বিল্টু। দীর্ঘ টালবাহানার পর পুলিশ সোমবার তাঁকে প্রথমে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাঁকে অনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।শনিবারই শ্রীরামপুরে তৃণমূলের মেগা জনসভায় প্রথম সারিতে দেখা গিয়েছিল এই যুব নেতাকে। তার ঠিক পরদিনই তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে আইনি জট তৈরি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার বিজেপির পক্ষ থেকে তন্ময় দেবের বিরুদ্ধে উত্তরপাড়া থানায় একটি নতুন লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পদ্ম শিবিরের অভিযোগ, তন্ময় ও তাঁর অনুগামীরা এলাকায় বিজেপি কর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন এবং তাঁদের এলাকা ছাড়া করার তীব্র হুমকি ও ভয় দেখান।অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। তবে শুধু এই নতুন ব্যবস্থাপনাই নয়, পুলিশের দাবি—তন্ময়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পুরনো ফৌজদারি মামলা বকেয়া ছিল। অতীতে কোন্নগর কলেজের এক সম্মানীয় অধ্যাপককে নিগ্রহ করা এবং উত্তরপাড়ার প্রবীণ বিজেপি নেত্রী কৃষ্ণা ভট্টাচার্যকে বাড়িতে ঢুকে মারধর করার পুরনো ও গুরুতর মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল।

রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, অপরাধমূলক কাজ এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক রঙ না দেখেই কড়া পদক্ষেপ করা হচ্ছে। উত্তরপাড়া থানার এক পদস্থ আধিকারিক জানান, “আইন সবার জন্য সমান। নির্দিষ্ট অভিযোগ ও পুরনো মামলাগুলির ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” তন্ময় দেবের মতো উত্তরপাড়ার একসময়ের দাপুটে যুব নেতার এই আকস্মিক গ্রেফতারি হুগলির তৃণমূল শিবিরে বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই গ্রেফতারির প্রতিবাদে ঘাসফুল শিবিরের কর্মী-সমর্থকেরা উত্তরপাড়া থানার সামনে কোনও বিক্ষোভ বা আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটে কি না, এখন সেটাই দেখার।