প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন পালাবদলের পর এবার প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় অ্যাকশন শুরু করল নতুন সরকার। ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতেই এক লহমায় শেষ হয়ে গেল বিদায়ী তৃণমূল সরকারের দাপুটে মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ (ববি) হাকিমের দীর্ঘদিনের রাজকীয় ভিআইপি প্রটোকল। গতকাল থেকেই তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে হাই-প্রোফাইল পুলিশি কনভয় সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। আজ আর কোনও হুডখোলা পাইলট কার বা পুলিশের সাইরেন নয়, একেবারে সাধারণ নাগরিকের মতো নিজের ব্যক্তিগত একটি গাড়িতে চেপে কলকাতা পুরসভায় (KMC) আসতে দেখা গেল তাঁকে। ক্ষমতার অলিন্দে থাকা একজন মেয়রের এই আকস্মিক ‘ডাউনগ্রেড’ দেখে খোদ পুরভবনের কর্মী ও সাধারণ মানুষের চোখ চড়কগাছ।
নবান্নের শীর্ষ সূত্রের খবর, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সমস্ত বিদায়ী মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের অতিরিক্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং ক্যাটাগরি বহির্ভূত নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লালবাজারের (কলকাতা পুলিশ) সেই নির্দেশিকা মেনেই ফিরহাদ হাকিমের কনভয়ের গাড়িগুলি পুলিশ লাইনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর সুরক্ষায় মোতায়েন পুলিশ কর্মীর সংখ্যা একধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান নিয়মের পরিধির মধ্যে থেকে একজন বিধায়ক এবং বর্তমান মেয়রের জন্য যতটুকু ন্যূনতম নিরাপত্তা প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই বহাল রাখা হয়েছে। কোনওরকম অতিরিক্ত ক্ষমতার প্রদর্শন বা সরকারি অপচয় যে নতুন সরকার বরদাস্ত করবে না, এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আইনি ও সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পতন ঘটলেও কলকাতা পুরসভার বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি। পৌরভোটে জেতা কাউন্সিলরদের সংখ্যা গরিষ্ঠতা থাকায় ফিরহাদ হাকিম টেকনিক্যালি এখনও মেয়রের চেয়ারে বসে আছেন। কিন্তু রাজ্যের প্রশাসনিক রাশ এখন সম্পূর্ণভাবে বিজেপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের হাতে। ফলে রাজ্য পুলিশের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রটোকল ব্যবস্থা থেকে বিদায়ী জমানার মেদ ছেঁটে ফেলা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “চেয়ারে থাকলেও ববি হাকিম এখন কার্যত নখদন্তহীন এক মেয়র, যাঁর মাথার উপর থেকে নবান্নের অদৃশ্য অভয়হস্ত সরে গিয়েছে।”
বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলের দাবি, বিগত দিনে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের করের টাকায় যে রাজকীয় আভিজাত্য ও কনভয়ের দাপট তৃণমূল নেতারা দেখাতেন, তার অবসান হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল। সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে এবং আইনি পরিধির মধ্যে থেকেই এই অতিরিক্ত ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান ঘটানো হয়েছে। পুরসভার অলিন্দে এখন একটাই আলোচনা— সরকারি কনভয় কেড়ে নেওয়া তো কেবল শুরু, আগামী দিনে পুরসভার আর্থিক অনিয়মের হিসাব ও বোর্ডের ভবিষ্যৎ কোন দিকে ঘোরে, সেটাই এখন দেখার।