প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর রেশন দুর্নীতি সমূলে উপড়ে ফেলতে এবার সরাসরি ময়দানে নেমে অ্যাকশন শুরু করলেন খোদ খাদ্যমন্ত্রী। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর মণিগ্রাম মৎস্যজীবী পাড়া এলাকায় রেশনে চরম নিম্নমানের ও পচা চাল দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ আসতেই গত ৫ আগস্ট ২০২৬ (বুধবার) বিকেলে সেখানে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আচমকা হানা দেন রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। মন্ত্রীর এই ঝটিকা অভিযানের পর গোটা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রেশন ডিলারদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মণিগ্রাম মৎস্যজীবী পাড়ার স্থানীয় গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল যে, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁদের যে চাল ও গম দেওয়া হচ্ছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের, দুর্গন্ধযুক্ত এবং খাওয়ার অযোগ্য। বুধবার বিকেলে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া মণিগ্রামের ওই নির্দিষ্ট রেশন দোকানে গিয়ে হাজির হলে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং প্লাস্টিকের ব্যাগে থাকা পচা চাল মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। খাদ্যমন্ত্রী নিজে সেই রেশনের চাল ও গম হাত দিয়ে পরীক্ষা করেন এবং গুণগত মান অত্যন্ত খারাপ দেখে মেজাজ হারান। তিনি উপস্থিত রেশন ডিলারকে তীব্র ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি খাদ্য দফতরের ফুড ইন্সপেক্টরকে (Food Inspector) এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশ রয়েছে—রেশনে প্রতিটা দানার গুণগত মান যেন একশো ভাগ সঠিক হয় এবং উপভোক্তারা যেন তাঁদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হন।খাদ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় কড়া বার্তা দেন: “রেশনে নিম্নমানের চাল দেওয়ার অভিযোগ পেয়েই আমি আজ এখানে খতিয়ে দেখতে এসেছি। গরিব মানুষের খাদ্য নিয়ে এই ধরণের জালিয়াতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কোন গোডাউন থেকে এই খারাপ চাল সরবরাহ করা হয়েছে তা ফুড ইন্সপেক্টরকে তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছি। দোষী প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিল সহ কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

খাদ্যমন্ত্রীর এই ঝটিকা অ্যাকশনের পর মণিগ্রাম মৎস্যজীবী পাড়ার সাধারণ মানুষ অত্যন্ত স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রী খাদ্য দফতরের বিশেষ ভিজিল্যান্স স্কোয়াডকে নির্দেশ দিয়েছেন, বনগাঁ মহকুমার প্রতিটি রেশন দোকানে নিয়মিত সারপ্রাইজ ভিজিট চালিয়ে খাদ্যশস্যের গুণগত মান পরীক্ষা করার জন্য। নতুন বিজেপি সরকারের এই অন-স্পট অ্যাকশন প্রমাণ করে দিল যে, খাদ্য দফতরে বিগত জমানার খামখেয়ালি সংস্কৃতি এবার পুরোপুরি বন্ধ হতে চলেছে।