প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গত ১০ অগাস্ট হুগলির জেলা সদর চুঁচুড়ায় বামেদের ‘আইন অমান্য’ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনার জেরে অবশেষে বড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। আজ, মঙ্গলবার উত্তরপাড়ার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হলো উত্তরপাড়ার প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান বাম নেতা শ্রুতিনাথ প্রহরাজকে। তাঁর সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয়েছে কোন্নগরের দুই সক্রিয় সিপিএম কর্মী দীপক চক্রবর্তী এবং অনুপম চক্রবর্তীকেও।আজ মঙ্গলবার বিকেলেই ধৃত তিনজনকে চুঁচুড়া জেলা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।

চলতি মাসের ১০ অগাস্ট হুগলি জেলা জুড়ে বামেদের শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ (CITU)-এর পক্ষ থেকে একটি মেগা ‘আইন অমান্য’ এবং জেলাশাসকের (DM) দফতর অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনকারীরা মিছিল করে জেলাশাসকের দফতরের দিকে এগোনোর সময় চুঁচুড়ার ঐতিহ্যবাহী ঘড়ির মোড়ে পুলিশ তাঁদের বিশাল ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। অভিযোগ, ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করতেই পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি ও খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বাম কর্মী-সমর্থক এবং দুই পুলিশকর্মী আহত হন। ওই দিনই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০ জন বাম কর্মীকে পুলিশ আটক করেছিল, যার মধ্যে ৪ জনকে পরে গ্রেফতার করা হয় এবং বাকিরা জামিন পান।

১০ অগাস্টের ওই অশান্তি পাকানো, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট মামলার তদন্তে নেমে আজ চুঁচুড়া থানার পুলিশ উত্তরপাড়ায় শ্রুতিনাথ প্রহরাজের বাড়িতে হানা দেয় এবং তাঁকে গ্রেফতার করে।আজ মঙ্গলবার বিকেলে চুঁচুড়া জেলা আদালতে তোলা হলে ধৃতদের পক্ষের আইনজীবীরা সওয়াল করেন যে, এটি একটি রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল এবং এখানে কোনো পূর্বপরিকল্পিত অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল না। দু-পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে আদালতের বিচারক প্রাক্তন বিধায়ক ও দুই কর্মীর জামিন মঞ্জুর করেন।

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে (বিজেপি সরকার) এই গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সিপিএমের হুগলি জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ পুলিশের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে বলেন, “ভোররাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে আমাদের ভয় দেওয়া যাবে না। এটি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়।” জামিন পাওয়ার পর প্রাক্তন বিধায়ক শ্রুতিনাথ প্রহরাজও জানান, মেহনতি মানুষের স্বার্থে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি আরও একশো বার কারাবরণ করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আইন সবার জন্য সমান। আন্দোলনের নামে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা বা পুলিশকে আক্রমণ করা হলে আইন নিজের পথেই চলবে। এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয় নেই।