প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে পুরবোর্ড ভাঙার চলমান ধারায় এবার যুক্ত হলো উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন পুরসভা গোবরডাঙা। সোমবার সেখানে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার জেরে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে বর্তমান পুরবোর্ডটি। জানা গিয়েছে, পুরপ্রধান (চেয়ারম্যান) ও উপ-পুরপ্রধানসহ (ভাইস চেয়ারম্যান) মোট ১৪ জন তৃণমূল কাউন্সিলর তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এই গণ-পদত্যাগের জেরে সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, পুরবোর্ড ভাঙার এই চিত্রনাট্য গত সপ্তাহ থেকেই তৈরি হচ্ছিল। গত শুক্রবার আচমকাই ৪ জন তৃণমূল কাউন্সিলর তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই চলতি সপ্তাহের সোমবার পুরসভার এগ্জিকিউটিভ অফিসারের দপ্তরে গিয়ে আরও ১০ জন কাউন্সিলর নিজেদের ইস্তফাপত্র সঁপে দেন। মোট ১৭টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট এই পুরসভায় ১৪ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি পদত্যাগ করায় বোর্ডটি সম্পূর্ণভাবে সচলতা হারিয়েছে এবং আইনি নিয়মে এর পতন ঘটেছে।
ইস্তফা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন গোবরডাঙার বিদায়ী পুরপ্রধান শঙ্কর দত্ত। কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি স্বীকার করে নেন যে, তাঁরা সাধারণ মানুষকে সঠিক নাগরিক পরিষেবা দিতে পারছিলেন না। শঙ্করবাবুর কথায়, “নির্বাচনে মানুষ আমাদের চায়নি। আমরা ঠিকঠাক পরিষেবা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছিলাম, পাশাপাশি শারীরিক অসুস্থতার কারণও রয়েছে। পুরসভার দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবা যাতে কোনোভাবে ব্যাহত বা স্থবির না হয়, সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা পদত্যাগের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” এতদিন ধরে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি শহরের বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
পুরপ্রধান পরিষেবার অভাবের কথা বললেও, পদত্যাগী অন্য কাউন্সিলরদের সিংহভাগই তাঁদের ইস্তফাপত্রে “ব্যক্তিগত কারণ” ও “অসুস্থতা”-কে ঢাল করেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই রাজ্যের পূর্বতন শাসক শিবিরের পরিচালিত বিভিন্ন পুরবোর্ডে যে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ও রদবদল শুরু হয়েছে, গোবরডাঙার ঘটনা তারই ধারাবাহিক অংশ। ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টিই তৃণমূলের এবং ১টি বামেদের দখলে থাকলেও এই অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ বা কৌশলগত কারণেই বোর্ডের এই দশা হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে ৬ এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরসহ বাকি তিনজন কাউন্সিলর এখনও ইস্তফা না দিলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে বোর্ডটি এখন অকেজো। নিয়ম অনুযায়ী, এই গণ-পদত্যাগের পর পুরসভার প্রশাসনিক কাজ সচল রাখতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে খুব দ্রুত একজন সরকারি প্রশাসক (Administrator) নিয়োগ করা হতে পারে। এই অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসকই আপাতত শহরের জল, আলো ও সাফাইয়ের মতো জরুরি নাগরিক পরিষেবাগুলি দেখভাল করবেন।