প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শিক্ষাঙ্গনে নজিরবিহীন তাণ্ডব! ক্লাসে বিশৃঙ্খলা করায় ছাত্রকে সামান্য শাসন করেছিলেন শিক্ষক। আর সেই ‘অপরাধে’ স্কুল চত্বরে ঢুকে খোদ প্রধান শিক্ষকের চোখের সামনে দুই শিক্ষককে কোমর থেকে বেল্ট খুলে বেধড়ক পেটালেন এক ক্ষিপ্ত অভিভাবক! উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার অন্তর্গত গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশনের এই হাড়হিম করা ঘটনার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ মঙ্গলবার প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে। ঘটনার পর অভিযুক্ত অভিভাবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশনে একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলছিল। সেই সময় ক্লাসরুমের ভেতরে বেশ কয়েকজন পড়ুয়া চরম বিশৃঙ্খলা শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্কুলের বাংলার শিক্ষক অরুণ দাস হস্তক্ষেপ করেন এবং ছাত্রদের শান্ত হতে বলে সামান্য বকাঝকা ও শাসন করেন। অভিযোগ, স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ওই ছাত্র তার পরিবারকে শিক্ষকের শাসনের কথা জানায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করে সরাসরি স্কুলে চড়াও হন ওই ছাত্রের বাবা দেবব্রত দাস।
প্রকাশ্যে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, অভিযুক্ত দেবব্রত দাস স্কুলে ঢুকেই সোজা প্রধান শিক্ষক সমরেশচন্দ্র মণ্ডলের ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে শিক্ষক অরুণ দাসের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। বচসা চলাকালীনই আচমকা নিজের কোমর থেকে ভারী চামড়ার বেল্ট খুলে ফেলেন দেবব্রত। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি শিক্ষক অরুণ দাসকে লক্ষ্য করে সপাটে বেল্ট চালাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সহকর্মীকে বাঁচাতে প্রধান শিক্ষক সমরেশবাবু নিজে ছুটে যান। কিন্তু উন্মত্ত ওই অভিভাবক প্রধান শিক্ষককেও রেয়াত করেননি, তাঁকেও বেল্ট দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরবর্তীতে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা ঘরে ছুটে এসে ওই ব্যক্তিকে নিরস্ত করেন এবং পুলিশে খবর দেন।
এই নজিরবিহীন হামলার জেরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সমরেশচন্দ্র মণ্ডল সংবাদমাধ্যমকে জানান, “স্কুলে ন্যূনতম শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ছাত্রদের একটু-আধটু শাসন করতেই হয়। কিন্তু তার জন্য যদি এভাবে অভিভাবকরা স্কুলে ঢুকে বেল্ট নিয়ে মারধর করেন, তবে পঠনপাঠন চালানো অসম্ভব। আমরা রীতিমতো আতঙ্কিত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
ঘটনার পরই গোপালনগর থানার পুলিশ স্কুলে পৌঁছায়। শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত অভিভাবক দেবব্রত দাসকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দান এবং গুরুতর আঘাতের অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। স্কুল চত্বরের ভেতরে শিক্ষকদের ওপর এমন বর্বরচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে গোটা রাজ্যের শিক্ষামহলে।