প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আইন কি কেবল আমজনতার জন্য? সাধারণ মানুষ হলে তো প্রথম ডাকেই পুলিশ কলার ধরে টেনে নিয়ে যেত! কিন্তু তিনি তো তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’। তাই কি একবার নয়, দুবার নয়, পরপর তিন-তিনবার সিআইডি (CID)-র নোটিশকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেওয়া গেল? অবশেষে সেই অহংকারে বড়সড় ধাক্কা দিল খোদ কলকাতা হাইকোর্ট। রাজনৈতিক মহলের মতে, আদালতের কড়া চাবুক না পড়লে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের ভবানী ভবনের রাস্তা চেনা হয়তো সম্ভব হতো না।বিধায়কদের সই জালিয়াতির মতো মারাত্মক অভিযোগে তদন্তকারী সংস্থা যখন তলব করে, তখন একজন জনপ্রতিনিধির প্রথম দায়িত্ব তদন্তে সহযোগিতা করা। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা গেল উল্টো পুরাণ। তিনবার হাজিরা এড়ানোর পর যখন আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিল, তখনই টনক নড়ল নেতার।
পদ্মশিবিরের তীব্র কটাক্ষ—একেই কি বলে ক্ষমতার দাপট? আদালতের সেই আইনি থাপ্পড় খেয়েই শেষমেশ বাধ্য হয়ে সাড়ে ৫ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরার মুখোমুখি হতে হলো তৃণমূলের এই হেভিওয়েটকে। যে নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বড় বড় আইনি বুলি আওড়ান, আদালতের বাধ্যবাধকতা ছাড়া তাঁর এই তদন্তের মুখোমুখি না হওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে সুর চড়িয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির স্পষ্ট দাবি, এটা কেবল একটা সাধারণ হাজিরা নয়, এটা আসলে আইনি ব্যবস্থার কাছে ঔদ্ধত্যের পতন। দলের ভেতরেই যেখানে বিধায়কদের সই জালিয়াতির মতো কাণ্ড ঘটে এবং খোদ শীর্ষ নেতাকে সাড়ে ৫ ঘণ্টা জেরার মুখে পড়তে হয়, সেখানে সামগ্রিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
বিরোধীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, আইনি ফাঁকি দিয়ে বেশিদিন পার পাওয়া যায় না। সাড়ে ৫ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা তো কেবল শুরু, আগামী ১৪ জুন ফের বেলা ১২টায় তলব করা হয়েছে তাঁকে। এবার দেখার, আইনের এই সাঁড়াশী চাপে আগামী দিনে আর কী কী বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসে।