প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে চরম নাটকীয় মোড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট’ শিবিরকে বড় ধাক্কা দিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিল, বিধানসভায় ‘বিদ্রোহী’ ব্লকের নির্বাচিত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই (রায়) আপাতত বিরোধী দলনেতা হিসেবে বহাল থাকছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ, বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চ বিধানসভার স্পিকারের নেওয়া সিদ্ধান্তে কোনো হস্তক্ষেপ করতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। ফলে ধাক্কা খেল বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার কালীঘাট শিবিরের আর্জি।
এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা সহ ৫৮ জন ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করেছিলেন স্পিকার। হাইকোর্ট প্রাথমিকভাবে স্পিকারের সেই স্বীকৃতিতেই সিলমোহর দিল। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানান যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে আপাতত দৃষ্টিতে কোনো আইনি ভুল নেই।আপাতত স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করলেও, আদালত এই মামলায় সব পক্ষকে বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী জুলাই মাসে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
দল ভাঙনের এই আবহে হাইকোর্টের এই রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। অন্যদিকে, আদালত থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, ঋতব্রতের পক্ষে থাকা বিধায়কদের সমর্থন ৫৮ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৬৫ জনে পৌঁছেছে। আইনি লড়াই অবশ্য এখানেই থামছে না। জানা গেছে, সিঙ্গল বেঞ্চের এই রায়ের বিরুদ্ধে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে দ্রুত ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে আপাতত বিধানসভার অলিন্দে ও আইনি লড়াইয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজের জমি শক্ত করে রাখলেন।