প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষায় এবার এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী মোড়! রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠিত হতেই একের পর এক বড় সিদ্ধান্তের আবহ। এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেখানো পথে হেঁটে রাজ্যে বড়সড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের ‘স্কুল ব্যাগ পলিসি’কে রাজ্যে হুবহু কার্যকর করতে স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে এক চরম নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় এত বড় নিয়মের পরিবর্তন রাজ্যের ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি, যা নিয়ে এই মুহূর্তে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে শিক্ষামহলে।

নতুন এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, এতদিন ধরে চলা স্কুল শিক্ষার চেনা ছবিটা এবার আমূল বদলে যাচ্ছে। শিশুদের কাঁধের ওপর থেকে বইয়ের পাহাড় সরাতে এবং পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে কড়া অবস্থান নিচ্ছে নবগঠিত রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP) মূল সুরকে মান্যতা দিয়ে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনো পড়ুয়ার ব্যাগের ওজন তার নিজের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। নিয়ম ভাঙলে স্কুলের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও থাকছে নেপথ্যে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার আসতেই কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে যে সাধারণ মানুষের কতটা সুবিধা হতে পারে, এই সিদ্ধান্ত তারই এক বড় প্রমাণ। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর শিশুদের হোমওয়ার্কের বোঝা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া এবং প্রাক-প্রাথমিকে ‘নো ব্যাগ নীতি’ বা ব্যাগহীন স্কুলের যে স্বপ্ন কেন্দ্র দেখেছিল, তা এবার অতি দ্রুত বাস্তবায়িত হতে চলেছে এই রাজ্যেও। স্কুলগুলির জন্য জারি একগুচ্ছ কড়া নিয়ম। প্রতিটি স্কুলে বাধ্যতামূলকভাবে ওজন মাপার মেশিন রাখতে হবে। আচমকা পরিদর্শনে ব্যাগের ওজন বেশি মিললে জবাবদিহি করতে হবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। কোন শ্রেণীর ব্যাগের ওজন কত কেজি হবে, তার চার্ট প্রতিটি ক্লাসরুমে টাঙানো বাধ্যতামূলক। বইখাতা ছাড়া শুধু খেলাধুলো ও সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে পড়াশোনার যে অভিনব মডেল কেন্দ্র এনেছিল, তা এবার বাধ্যতামূলকভাবে পালন করতে হবে।

শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, কেন্দ্রের এই জনমুখী ও বিজ্ঞানসম্মত নীতি রাজ্যে কার্যকর হওয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ স্কুল পড়ুয়া এক পঙ্গুকারী মানসিক ও শারীরিক চাপ থেকে মুক্তি পাবে। শুভেন্দু অধিকারী সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন ভোরের সূচনা হলো বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।