প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সভার উদ্যোক্তাদের গ্রেফতার করার পর এবার খোদ নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে জালে তুলতে তৎপর প্রশাসন। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করতে রাজি নয় মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধানের শক্তিপুরের বাড়িতে সশরীরে নোটিস নিয়ে হাজির হলেন রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার পুলিশ আধিকারিকরা। জোড়া থানার পক্ষ থেকে আইনি সমন ধরানো হয়েছে বিতর্কিত এই বিধায়ককে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৬ জুন রেজিনগরের দলীয় সভা থেকে সনাতনীদের পিটিয়ে ‘স্যাঁটা’ ভাঙার প্রকাশ্য হুমকি এবং শক্তিপুরের সভায় এক পুলিশ আধিকারিককে (OC) থানা থেকে টেনে বের করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন হুমায়ুন। এই বেলাগাম উস্কানির প্রেক্ষিতেই পুলিশের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Moto) মামলা রুজু করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক অত্যন্ত কঠোর ও জামিন অযোগ্য ধারায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার জেরে আইনি ফাঁসে কার্যত কোণঠাসা বিধায়ক।

পুলিশের তরফে দেওয়া নোটিসে অত্যন্ত কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের ৩ জুলাই এবং ৪ জুলাই যথাক্রমে শক্তিপুর ও রেজিনগর থানায় সশরীরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে হুমায়ুন কবীরকে। নির্দিষ্ট সময়ে থানায় উপস্থিত না হলে পুলিশ আইন অনুযায়ী আরও কঠোর পদক্ষেপ অর্থাৎ গ্রেফতারির দিকেও এগোতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

নোটিস জারির সময় তিনি বাড়িতে না থাকলেও, পরে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিধায়ক। কিছুটা সুর নরম করে তিনি বলেন, “নোটিস এসেছে শুনেছি। আমি আইন মেনেই চলব। ৩ জুলাই নিজেই থানায় যাব। তবে আমি কোনো অন্যায় করিনি, নতুন বিজেপির কিছু নেতার অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম। আমি গ্রেফতারিকে ভয় পাই না।”

উদ্যোক্তাদের পর এবার খোদ বিধায়ককে জোড়া নোটিস পাঠানোয় মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। ৩ জুলাই থানায় পা দেওয়ার পর হুমায়ুন কবীরের ভাগ্যে কী ঘটতে চলেছে, সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।